আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার জন্য গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ডে যোগ দিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আঙ্কারা ও কায়রো সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই বোর্ড ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্প যে পরিকল্পনা করেছেন, সেই পরিকল্পনার অধীনে গাজায় অস্থায়ী শাসনব্যবস্থা তদারকি করবে।
ট্রাম্পের পাঠানো এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছেন এরদোয়ান। চিঠিতে ট্রাম্প তাকে বোর্ডের ‘প্রতিষ্ঠাতা সদস্য’ হওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল কমিউনিকেশন্সের পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে বোর্ডে যোগ দিতে ট্রাম্প যে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের নাম ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন ট্রাম্প নিজেই।
এই বোর্ড গঠনের বিষয়টি ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনার অংশ, যা গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে গঠিত সংস্থা গাজা পরিচালনা করবে। আর এই বোর্ড একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেই শাসনব্যবস্থা তদারকি করবে।
গাজায় যুদ্ধ অবসানে মার্কিন সমর্থিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এটি ঘোষণা করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের যে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠিত হয়েছে। এই বোর্ডের সদস্যদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এটি যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে গঠিত সবচেয়ে মহান এবং মর্যাদাপূর্ণ বোর্ড।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায় গাজা এখন ধ্বংসস্তূপ। ইসরায়েলি তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৩০০ জনের বেশি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে তারা ৪৫১ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং আহত করেছে ১ হাজার ২০০–এর বেশি মানুষকে।
এফএ