আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করেছে মিয়ানমার।
শুনানির প্রথম দিনে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, গাম্বিয়া এই অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
তিনি আদালতকে বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রমাণের অভাবে তা টেকসই নয়।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জ্যালো আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে মিয়ানমার পরিকল্পিত ‘গণহত্যামূলক নীতি’ গ্রহণের মাধ্যমে দেশটিতে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চেয়েছিল।
২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন। প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
২০১৮ সালে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা এবং অন্যান্য এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছিল।
মায়ানমারে কখনওই সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা করা হয়নি। শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জ পরিচালিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বা আইসিজে)-তে এই দাবি করল সে দেশের সামরিক জুন্টার সরকার।
২০১৭ সাল থেকে বেশ কয়েক দফায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ানমার সেনার বিরুদ্ধে। সে সময় মায়ানমারের গণতন্ত্রকামী নেত্রী আউং সান সু চি-র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি ক্ষমতায় ছিল।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর সু চি-সহ মায়ানমারের অধিকাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি গৃহবন্দি হন। অনেকে দেশ ছেড়ে পালান। জুন্টা জমানাতেও রোহিঙ্গারা ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলিতে রয়েছেন।
আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার করা অভিযোগের ভিত্তিতে মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে আইসিজে-তে শুনানি শুরু হয়েছে। সেখানে জুন্টা প্রধান জেনারেল মিন আং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের দাবি, রাখাইন প্রদেশ (এই প্রদেশেই অধিকাংশ রোহিঙ্গার বাস) রোহিঙ্গা বা অন্য কোনও জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান হয়নি।
অভিযান হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে। মায়ানমারের মন্ত্রী কো কো হ্লাইং স্বয়ং নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে আইসিজে শুনানিতে হাজির হয়ে বলেন, আমাদের প্রত্যাশা এই মামলার রায় প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতেই হবে, ভিত্তিহীন অভিযোগের উপর নয়। আবেগপ্রবণ ভাষা ও অস্পষ্ট কাল্পনিক চিত্র কখনওই সঠিক তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের বিকল্প হতে পারে না।
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের দাবি, সেসময় একাধিক হামলায় এক ডজনের বেশি সেনা নিহত হওয়ার পরে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের নির্মূল করতে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। এর আগে শুনানির শুরুতে আবেদনকারী দেশ শুনানিপর্বের শুরুতে আবেদনকারী গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পরিকল্পিত ভাবে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের নির্মূল করার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
আইসিজে আগেই আগেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মিয়ানমার সেনা-শাসক জান্তা সরকারকে। কিন্তু তা-ও পালিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
-এমএমএস