আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রাখাইনে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ প্রমাণে গাম্বিয়া ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার।
২০১৯ সালে ৫৭ দেশের জোট, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো–অপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে আইসিজে-তে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত দেশ গাম্বিয়া।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে৷ তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমারের প্রতিনিধি ও দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কো কো হ্লাইং বলেছেন, ‘গাম্বিয়া প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই মামলার রায় হবে প্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতে, অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে নয়৷’
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানের ফলে কমপক্ষে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাড়ি-ঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়৷ অভিযানের সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যা, গণধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে – এমন তথ্য উঠে আসে জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনে৷ সেই সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
তবে আইসিজে-তে কো কো হ্লাইং বলেন, ২০১৭ সালের সামরিক অভিযান ছিল বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, এটি কোনো গণহত্যা ছিল না।
তিনি আরও দাবি করেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ বা নির্ভরযোগ্য ছিল না।
অন্যদিকে আদালতে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা বলেন, ‘মিয়ানমারের হাজার হাজার বেসামরিক রোহিঙ্গার ওপর আক্রমণ এবং তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া কেবল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল- বিচারকদের এমন সিদ্ধান্তে আসা যুক্তিসঙ্গত হবে না৷’
শুনানিতে কো কো হ্লাইং আরও জানান, ‘মিয়ানমার সরকার ২০১৭ সাল থেকেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনা ও পুনর্বাসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোভিড-১৯ মহামারি, ঘূর্ণিঝড় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই উদ্যোগ ব্যাহত হয়েছে। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে আমাদের উদ্দেশ্য এই জনগোষ্ঠীকে নির্মূল বা জোরপূর্বক বিতাড়িত করা নয়।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আইসিজেতে আরও ৩ সপ্তাহ ধরে এ মামলার শুনানি চলবে। আগামী বুধবার থেকে রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শুনবেন আদালত। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক আদালতে সরাসরি নিজেদের কথা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন রোহিঙ্গারা। আর চলতি বছরের শেষ দিকে এই মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে পারে বলে আশ কারা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে
এমএইচআর