images

আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট আরেকটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৬ এএম

ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ক্যারিবীয় সাগরে একটি ষষ্ঠ তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

‘ভেরোনিকা’ নামের জাহাজটি ভোররাতে পরিচালিত এক অভিযানে “কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই” দখলে নেওয়া হয় বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, জাহাজটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর ওপর কোয়ারেন্টিন’ অমান্য করছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, “ভেনেজুয়েলা থেকে যে তেলই বের হবে, তা অবশ্যই সঠিক ও আইনসম্মত সমন্বয়ের মাধ্যমে হতে হবে।”

চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি দেশটির বিপুল তেলসম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছেন।

সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, “ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর ওপর কোয়ারেন্টিন অমান্য করে চলাচল করা সর্বশেষ ট্যাংকার হলো ভেরোনিকা।”

তারা জাহাজটিতে মার্কিন মেরিন ও নাবিকদের ওঠার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে।

ট্যাংকার ট্র্যাকিং সেবা TankerTrackers.com–এর তথ্য অনুযায়ী, গায়ানার পতাকা বহনকারী কাঁচা তেলবাহী জাহাজ ভেরোনিকা জানুয়ারির শুরুতে ভেনেজুয়েলার জলসীমা থেকে খালি অবস্থায় যাত্রা শুরু করে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) ডাটাবেস বলছে, জাহাজটি আগে রাশিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন নামে নিবন্ধিত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোম সামাজিক মাধ্যমে জানান, বৃহস্পতিবারের এই জাহাজ জব্দের অভিযানটি সামরিক বাহিনীসহ পররাষ্ট্র ও বিচার বিভাগে থাকা সহকর্মীদের সঙ্গে “ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে” পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, “আমাদের সাহসী কোস্ট গার্ড সদস্যরা আবারো আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে নিখুঁতভাবে একটি অভিযান সম্পন্ন করেছেন।”

এই ঘটনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ‘ডার্ক ফ্লিট’ নামে পরিচিত—যার মধ্যে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেল পরিবহনকারী এক হাজারের বেশি জাহাজ রয়েছে—সেই বহরের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করে দেশটির তেল বিক্রি নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় ওয়াশিংটন।

এটি এমন এক সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ৫০০ মিলিয়ন ডলার (৩৭৩ মিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের ভেনেজুয়েলার তেলের প্রথম বিক্রয় সম্পন্ন করেছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তেল কোম্পানির নির্বাহীদের ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামোয় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তবে নির্বাহীরা বলেন, দেশটিকে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করতে হলে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।

ট্যাংকার জব্দের এই অভিযান ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে জাহাজে কাঁচা তেল তোলার পরিমাণ স্বাভাবিকের প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনটি শিপিং বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের ভিত্তিতে করা।

কেপলার জানায়, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার বন্দরগুলোতে যেসব জাহাজে তেল তোলা হচ্ছে, সেগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র বা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ শোধনাগারের উদ্দেশে যাচ্ছে—যার কিছু তেলক্ষেত্রের কাছাকাছি নয়।

১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রগামী জাহাজ বাদ দিয়ে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় ১৭টি ট্যাংকারে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ব্যারেল কাঁচা তেল মজুত ছিল। ট্রাম্প যদি অভিযান আরো বিস্তৃত করতে চান, যুক্তরাষ্ট্র সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: বিবিসি।

এমআর