images

আন্তর্জাতিক

ইরানের ক্ষমতায় গেলে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেব: রেজা পাহলভি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাঝেই একের পর এক ঘোষণা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশটির শেষ শাহের (সম্রাট) ছেলে ও ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। এবার ক্ষমতায় গেলে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক খাতে পরমাণু কর্মসূচিও বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। 

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির এই জ্যেষ্ঠ পুত্র বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে আমাদের সকল বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলছি, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জোয়ালের নিচে থাকা ইরানকে আপনাদের কাছে সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং দরিদ্র্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এটি আসল ইরান নয়, সত্যিকারের ইরান একটি সুন্দর, শান্তিপ্রিয় এবং সমৃদ্ধ ইরান। সেই ইরান বর্তমান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ক্ষমতা দখলের আগে বিদ্যমান ছিল। তবে সেই ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের দিন থেকেই আবারো উঠে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেই নতুন ইরানে সামরিক খাতে পরমাণু প্রকল্প বন্ধ করা হবে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন ও সহায়তা প্রদান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে এবং সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার, ইসলামি কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করবে। সেই ইরান এই অঞ্চলে বন্ধু এবং স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে কাজ করবে। এবং এটি বিশ্ব নিরাপত্তায় একটি দায়িত্বশীল অংশীদার হবে।’ 

পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দিয়ে পাহলভি বলেন, ‘কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে এবং মার্কিন জনগণের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করা হবে। ইসরায়েল রাষ্ট্র অবিলম্বে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আমরা আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ ও সাইরাস চুক্তিতে সম্প্রসারিত করে একটি স্বাধীন ইরান, ইসরায়েল এবং আরব বিশ্বকে একত্রিত করব।’ 

ইরান বিশ্বের বৃহত্তম তেল ও গ্যাসের মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি মুক্ত ইরান মুক্ত বিশ্বের একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হয়ে উঠবে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।’

প্রসঙ্গত, ইরানের ঐতিহাসিক রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে জন্মের পর থেকেই প্রস্তুত করা হচ্ছিল রেজা পাহলভিকে। কিন্তু ১৯৭৯ সালের বিপ্লব যখন তার বাবার রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে, তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।

দূর থেকেই তিনি দেখেছেন, তার বাবা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি, যিনি একসময় পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থন পেয়েছিলেন, তিনি কীভাবে এক দেশ থেকে আরেক দেশে আশ্রয় খুঁজে ফিরেছেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মিসরে মারা যান। হঠাৎ ক্ষমতা হারানোর পর তরুণ যুবরাজ ও তার পরিবার রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে এবং নির্বাসনে জীবন কাটাতে বাধ্য হন। 

পরবর্তী কয়েক দশকে পাহলভি পরিবার একাধিকবার ট্র্যাজেডির মুখে পড়ে। রেজা পাহলভির ছোট বোন ও ছোট ভাই দুজনই আত্মহত্যা করেন। ফলে, অনেকেই যেটিকে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া রাজবংশ বলে মনে করতেন, সেই বংশের প্রতীকী প্রধান হিসেবে শেষ পর্যন্ত তিনিই থেকে যান। এখন ৬৫ বছর বয়সে তিনি আবারও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছের এক শান্ত উপশহরে বসবাস করেন তিনি।

এমএইচআর