আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই হুমকির পরপই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করে ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কঠোর হামলা চালানো হবে।
বুধবার একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘তেহরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে ওই দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রতিফলন। ফলে ইরান এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা ঠেকাতে চেষ্টা করার অনুরোধও জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আমিরাত ও তুর্কিপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আরাগচি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদকে বলেছেন, ইরানিরা যেকোনো বিদেশী হস্তক্ষেপ থেকে তাদের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এদিকে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প, তবে এই পদক্ষেপের পরিধি এবং সময় এখনও স্পষ্ট নয়।
ইসরায়েলি সরকারের আরেক সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ইরানে শাসনব্যবস্থার পতন বা মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের পর গত ২৮ জানুয়ারি তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে এ আন্দোলন শুরু করেন। যা অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪৭ জন নিরাপত্তা কর্মীসহ সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করেছে। তবে মঙ্গলবার একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে বুধবার এই বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে তেহরান। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, গত সপ্তাহে গ্রেফতার হওয়া ২৬ বছর বয়সি বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড আজকের মধ্যে কার্যকর করা হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সোলতানি পেশায় একজন দোকানদার। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় গত ৮ জানুয়ারি তেহরানের উপকণ্ঠের কারাজ শহরে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তিনদিনে বিচার করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান
এমএইচআর