আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে ইরানে চলমান বিক্ষোভে শুরু থেকেই উসকানি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে নতুন বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকরা, প্রতিবাদ চালিয়ে যান - আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো (সরকারি) দখল করুন!!! খুনি এবং নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে। এমআইজিএ (মেক ইরান গ্রেট এগেইন)!!!’

এমআইজিএ বলতে ‘ইরানকে আবার মহান করো’ বোঝায়, যা ট্রাম্পের দেশীয় স্লোগান, ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো’- এর একটি ভিন্ন রুপ।
এদিকে ট্রাম্পের এমন বার্তার পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
এরআগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিচ্ছিলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের ইরান সরকার হত্যা করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হস্তক্ষেপ করবে। ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর চালানো যেতে পারে এমন বেশ কয়েকটি সামরিক ও গোয়েন্দা পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুইজন কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। তবে পেন্টাগন কর্মকর্তারা সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির জন্য প্রচারণার বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন।
এছাড়াও সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আরও বিক্ষোভকারী নিহত হলে তার সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছে। তার দাবি, ইরানি নেতারা তাকে ‘আলোচনার জন্য ফোন করেছেন’, তবে তিনি যোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বৈঠকের আগেই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে’।
এছাড়াও বিক্ষোভ- সহিংসতার মধ্যেই নিজ দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের জন্য পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভার্চুয়াল অ্যাম্বাসির’ এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে এমন প্রস্তুতি রাখুন। যোগাযোগের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন এবং স্থলপথে আর্মেনিয়া অথবা তুরস্কে চলে যান। “এ মুহূর্তে” ইরান ছাড়ুন।’
একই সঙ্গে ইরানে থাকা নাগরিককে কোনো প্রকার সরকারি সহায়তার আশা না রাখতেও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। আর যারা ইরান ছাড়তে পারবেন না তাদের কোনো নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া এবং খাবার মজুদ করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস
প্রসঙ্গত, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের পর গত ২৮ জানুয়ারি তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে এ আন্দোলন শুরু করেন। যা অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন একজন ইরানি কর্মকর্তা। এরমাধ্যমে এই প্রথম ব্যাপক মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা কর্মী উভয়ের মৃত্যুর পেছনেই দায়ী সন্ত্রাসীরা। তবে কতজন বিক্ষোভকারী ও কতজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন তার বিস্তারিত বিবরণ তিনি দেননি।
এরআগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ফলে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরানের ভেতর থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছে না এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর