images

আন্তর্জাতিক

বিক্ষোভে হামলা চালাতে আইএস জঙ্গিদের পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম

ইরানে চলমান বিক্ষোভে বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বিপুল সংখ্যক ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএস-এর সদস্যদের পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার। 

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দোরহিম মুসাভি বলেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে ইরানে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। 

মুসাভি দাবি করেন, ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে আইএস সদস্যদের ইরানে পাঠানো হয়েছিল, যাতে তারা ইরানি সাধারণ জনগণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে সহিংস হামলা চালায়। 

‘ইরান তার সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার কোনও লঙ্ঘন সহ্য করবে না’ উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সংযমের সঙ্গে কাজ করছে, তবে আইএসআইএস-সহ অপরাধী সন্ত্রাসী ও বিদেশি এজেন্টদের তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ দেবে না।’ 

এদিকে মঙ্গলবার ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। 

তাসনিম আরও জানায় ইরানি গোয়েন্দা বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়—সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এসব অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ডিভাইস এবং সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন উপকরণ।

পৃথকভাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসাবে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটককৃতরা ইরানের পূর্ব সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করে এবং মার্কিন তৈরি অস্ত্র এবং বিস্ফোরক বহন করছিল, যা তারা চলমান বিক্ষোভ কাজে লাগিয়ে হত্যাকাণ্ড এবং নাশকতার কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল।

এদিকে ইরানের এই অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কেউই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ইরানি নেতারা ও কর্মকর্তারা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের’ সমর্থন করার অভিযোগ করে আসছেন। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক ভাড়াটে সৈন্যদের’ ওপর নির্ভর করার অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ইরানি একটি শক্তিশালী জাতি, তারা শত্রুদের বিষয়ে অবগত ও সচেতন এবং প্রতিটি দৃশ্যপটেই তারা উপস্থিত থাকে’।

প্রসঙ্গত, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের পর গত ২৮ জানুয়ারি তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে এ আন্দোলন শুরু করেন। যা অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন একজন ইরানি কর্মকর্তা। এরমাধ্যমে এই প্রথম ব্যাপক মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা কর্মী উভয়ের মৃত্যুর পেছনেই দায়ী সন্ত্রাসীরা। তবে কতজন বিক্ষোভকারী ও কতজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন তার বিস্তারিত বিবরণ তিনি দেননি।

এরআগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। 

যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেহরানের মর্গগুলোতে কয়েক ডজন লাশের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ তাদের ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

মূলত, গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ফলে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরানের ভেতর থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছে না এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: আনাদোলু, আলজাজিরা


এমএইচআর