images

আন্তর্জাতিক

ইরানে অস্থিরতার নেপথ্যে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

ইরানে বর্তমান অস্থিরতা উসকে দিতে এবং নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে ইসরায়েল একটি সুসংগঠিত ও বিশাল ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। 

কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্থা সিটিজেন ল্যাব এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কার ও হারেৎজের যৌথ অনুসন্ধানে এই গোপন অভিযানের বিস্তারিত উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল সরকারের পরোক্ষ অর্থায়নে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পারস্য ভাষায় এই প্রচার চালানো হচ্ছে।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো ইরানিদের মধ্যে রাজতন্ত্রের প্রতি সমর্থন তৈরি করা এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। 

গত বছর তেহরানের এভিন কারাগারে ইসরায়েলি হামলার সময় এই নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। হামলার খবর ইরানি গণমাধ্যমে আসার আগেই ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা 'অ্যাভাটার' ব্যবহার করে বিস্ফোরণের খবর এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। 

এমনকি সাধারণ মানুষকে ব্যাংক লুট বা জেল ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করার মতো উসকানিমূলক পরামর্শও দেওয়া হয়েছে এই নেটওয়ার্ক থেকে।

২০২৩ সালে রেজা পাহলভির ইসরায়েল সফর এই প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করে। ইসরায়েলের বর্তমান বিজ্ঞানমন্ত্রী গিলা গামলিয়েল তাকে 'ইরানের যুবরাজ' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। 

সিটিজেন ল্যাব তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই প্রচারণার সময়সূচির সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের স্পষ্ট মিল পাওয়া গেছে, যা নির্দেশ করে যে এটি সম্ভবত ইসরায়েল সরকার বা তাদের নিযুক্ত কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেজা পাহলভি বিদেশে গণতন্ত্রের কথা বললেও ইরানিদের একাংশ তাকে তার বাবার স্বৈরাচারী শাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই দেখে। 

তেল-আবিবভিত্তিক গবেষক রাজ জিম্মতের মতে, ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য সমর্থন উল্টো খামেনি সরকারের সেই বয়ানকেই শক্তিশালী করছে যে বিদেশিরা ইরানকে আবার তাদের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। 

গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর উচিত এ ধরনের অনৈতিক ডিজিটাল ক্যাম্পেইন থেকে বিরত থাকা, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলে।

-এমএমএস