images

আন্তর্জাতিক

গাজার জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে থাকতে চায় বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে প্রস্তাবিত সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী— ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্সের (আইএসএফ) অংশ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারাও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।

শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আলিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা সহজ করা ছাড়াও রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের বিষয় উঠে এসেছে। এছাড়া, গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী’র অংশ হতে বাংলাদেশের নীতিগত আগ্রহের কথা জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। 

তবে এসব কিছুর মধ্যে গাজায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত বাহিনীতে বাংলাদেশ যোগ দিতে আগ্রহী- সরকারের তরফ থেকে এটি প্রকাশের পর এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের দিক থেকে এসব বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, কীসের ভিত্তিতে সরকার এই আগ্রহ প্রকাশ করলো সেটি বিস্তারিত জানালে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, বিশ্বজুড়ে এখন যে টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে সে আলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বাংলাদেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়- এমন ইঙ্গিত হয়তো সরকার এ আগ্রহ মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।

তার মতে, ‘বাংলাদেশ সাধারণত জাতিসংঘের আওতাভুক্ত শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ করে থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে হলেও গাজায় জাতিসংঘের আওতায় এই ফোর্স গঠিত হলে তাতে বাংলাদেশের জড়িত হতে আগ্রহী হতেই পারে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এ বাহিনীতে যুক্ত হতে বাংলাদেশের দিক থেকে নেতিবাচক কিছু নেই বলেই মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গত অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ২০ দফা পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সেনা নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনী। 

ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে (আইএসএফ) নামে বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, হামাসকে নিরস্ত্র করা, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো বিষয়গুলো থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় মার্কিন সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও আজারবাইজানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যাতে তারা এই বহুজাতিক বাহিনীতে অংশ নেয়।


এমএইচআর