images

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ-চীনের ওপর নজরদারিতে হলদিয়া নদীতে ঘাঁটি বানাচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

চীনের নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সামরিক অংশীদারিত্ব পর্যবেক্ষণে উত্তর বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক উপস্থিতি বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া নদীতে নতুন একটি নৌ ঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘাঁটিটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ (ছোট আকারের নৌযান মোতায়েনের জন্য পৃথক ইউনিট হিসেবে কার্যকর হবে) হিসেবে কাজ করবে। এর জন্য হলদিয়ার বিদ্যমান ডক কমপ্লেক্সটি কাজে লাগানো হবে, যার ফলে ন্যূনতম অতিরিক্ত অবকাঠামোর তৈরির মাধ্যমে ঘাঁটিতে দ্রুত কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট জেটি নির্মাণ এবং জাহাজ ও নৌসেনাদের রসদ সরবরাহের অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই নৌঘাঁটিতে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং ৩০০ টন ওজনের নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট মোতায়েন করা হতে পারে আশা করা হচ্ছে। এসব উচ্চগতির যুদ্ধবিমানগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে দ্রুত ও প্রতিক্রিয়াশীল সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

image

এছাড়াও এই জাহাজগুলোতে সিআরএর-৯১ কামান, যেগুলো নাগাস্ত্রের মতো লয়টারিং মিউনিশন ব্যবস্থায় সজ্জিত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর ফলে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানো এবং নজরদারি আরও কার্যকর হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ উপস্থিতি, বাংলাদেশের সঙ্গে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামোগত সম্পর্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অংশীদারিত্বের মধ্যে হলদিয়া ঘাঁটিটি অতিরিক্ত গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইন্দিয়া টুডে আরও জানিয়েছে, নতুন ঘাঁটিটি তুলনামূলকভাবে ছোট হবে, যেখানে প্রায় ১০০ জন অফিসার এবং নাবিক থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কমান্ড হবে না। এই ঘাটির অবস্থান হবে  কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। এতে হুগলি নদীর মাধ্যমে সময়সাপেক্ষ পরিবহন এড়িয়ে বঙ্গোপসাগরে সরাসরি প্রবেশ এবং কৌশলগত সুবিধা পাবে ভারতীয় নৌবাহিনী। 

এমএইচআর