images

আন্তর্জাতিক

‘হিজাব পরা নারী একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

হিজাব পরা নারী একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএ) প্রধান ও হায়দ্রাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তার এই মন্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি বলছে, যারা হিজাব পরা প্রধানমন্ত্রী পেতে ইচ্ছুক তাদের পাকিস্তানে চলে যেতে হবে।

মুম্বাই এবং রাজ্যের অন্যান্য শহরে স্থানীয় নির্বাচনের আগে মহারাষ্ট্র জুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন ওয়াইসি। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সোলাপুরে এক ভাষণে এআইএমআইএ সভাপতি ভারতীয় সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে ছিলেন, যা দেশের যেকোনো নাগরিককে শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার অনুমতি দেয়।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে শুধুমাত্র একটি ধর্মের (ইসলাম) ব্যক্তি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে বাবা সাহেবের (বিআর আম্বেদকর - যিনি ভারতের সংবিধান প্রণয়নকারী কমিটির প্রধান ছিলেন) সংবিধানে বলা হয়েছে, ভারতের যেকোনো নাগরিক প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মেয়র হতে পারেন। আমার স্বপ্ন যে এমন একদিন আসবে যখন একজন হিজাব পরা কন্যা এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।’ 

ওয়াইসি এই মন্তব্যে পরপরই ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোতির দল বিজেপি।

প্রতিক্রিয়ায় মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা নীতেশ রানে বলেছেন, ‘একটি হিন্দুরাষ্ট্রে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এত দুঃসাহসিক হওয়া উচিত নয়। আমাদের জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ হিন্দু। হিজাব বা বোরকা পরা কোন নারী  মুম্বাইয়ের প্রধানমন্ত্রী বা মেয়র হতে পারবেন না। যারা হিজাব পড়তে চান তারা ইসলামাবাদ বা করাচিতে যেতে পারেন। তাদের এখানে কোনও স্থান নেই।’  

এদিকে বিজেপি নেতা রানের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছের এআইএমআইএ-এর মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান। একই সঙ্গে ওয়াইসির মন্তব্যে ভুল কী তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি যুক্তি দেন যে সংবিধান যেকোনো ভারতীয় নাগরিককে, সে হিজাব পরিহিত মহিলা হোক না কেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত থাকার অনুমতি দেয়।

এআইএমআইএ-এর মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘ভারতের সংবিধান এই দেশকে শাসন করে এবং এই সংবিধান অনুসারে, যে কেউ প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল বা মেয়র হতে পারেন। তিনি (ওয়াইসি) কী ভুল বলেছেন? তিনি বলেছিলেন যে আমাদের ইচ্ছা যে একদিন হিজাব পরা একজন নারী দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, এতে কোনো ভুল নেই।

প্রসঙ্গত, ভারতে মুসলিম নারীদের হিজাব পড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালীন দুই ছাত্রীর হিজাব খুলতে বাধ্য করে তল্লাশি করা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এছাড়াও গত ডিসেম্বরে এক সরকারি অনুষ্ঠানে সার্টিফিকেট নিতে আসা এক মুসলিম নারী চিকিৎসকের হিজাব খুলে ফেলেন বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমার। এ ঘটনায় তীব্র বিতর্কের আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভারতে।  

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর