আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত রোববার থেকে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে শুরু হয়েছে তুমুল বিক্ষোভ। আর এই বিক্ষোভে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬ জন এবং আহত হয়েছেন ১৭ জন। এই পরিস্থিতিতে ইরান সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় এবং সহিংসভাবে হত্যা করে— তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যাবে।’
ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘আমরা যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, লকড অ্যান্ড লোডেড।’ অর্থাৎ ইরানে হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী।

এর আগে, গত রোববার তেহরানের খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের রিয়ালের মূল্য সর্বনিম্ন স্তরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছে। এর পরই বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু করেন দোকানিরা। এতে যোগ দেয় দেশটির বেশ কয়েকটি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ মানুষ।
ইরান সরকার বলেছে, তারা বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়টি স্বীকার করেন; কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ধৈর্যের সঙ্গে শোনা হবে।
অন্যদিকে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালছে দখলদার ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারসি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইরানি জনগণকে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে মোসাদ বলেছে, ‘আপনারা সবাই একত্র হয়ে সড়কে নেমে আসুন। এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা আপনাদের সঙ্গেই আছি। বিক্ষোভকারীদের শুধুমাত্র দূর থেকে নয়, বিক্ষোভস্থল থেকেও সহায়তা করা হচ্ছে’।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ইসলামিক রাষ্ট্রটিতে সর্বশেষ বিক্ষোভ। এরআগে ২০২২ সালে ২২ বছর বয়সী ইরানি তরুণী মাহসা আমিনিকে হিজাব না পরার ‘অপরাধে’ তুলে নিয়ে গিয়েছিল ইরানের পুলিশ। ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই পুলিশি হেফাজতেই তার মৃত্যু হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল কিছু মানুষ, যা চলে কয়েক মাস পর্যন্ত। সেই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্যসহ কয়েকশ মানুষ নিহত হন। এটি ছিল কয়েক বছরের মধ্যে ইরান সরকারের বিরোধিতার সবচেয়ে বড় ঘটনা।
সূত্র: রয়টার্স, ইরান ইন্টারন্যাশনাল
এমএইচআর