images

আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতে দীর্ঘদিনের খরা পরিস্থিতির অবসান ঘটলেও বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি করেছে আকস্মিক বন্যা। এতে অন্তত ১৭ জনের প্রাণ হারিয়েছে। সেই সঙ্গে ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আল জাজিরার জানিয়েছে, হেরাত প্রদেশের কাবকান জেলায় বৃহস্পতিবার একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন বলে জানান প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদি। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু।

আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএনডিএমএ) মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানান, সোমবার থেকে বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়া মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।

হাম্মাদ বলেন, বন্যায় নানা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গবাদিপশু মারা গেছে এবং প্রায় এক হাজার ৮০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আগে থেকেই ঝুঁকিতে থাকা শহর ও গ্রামীণ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আফগানিস্তানের হেরাত–কান্দাহার মহাসড়কের দাশতে বাকওয়া এলাকায় আকস্মিক বন্যার স্রোতে একটি ট্রাক উল্টে যাচ্ছে।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল বন্যার স্রোতে একটি বাস উল্টে যাওয়ার পর কয়েকজন মানুষ প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।

আফগানিস্তান প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ভারতের মতোই চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে মৌসুমি বৃষ্টির পর দেশটিতে আকস্মিক বন্যা প্রায়ই দেখা দেয়।

দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাত, দুর্বল অবকাঠামো, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি, যেখানে অনেক বাড়িঘর মাটির তৈরি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা খুবই সীমিত।

গত আগস্টে পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আফগানিস্তানে ছয় মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রাণ হারান এক হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয় আফগানিস্তানের নানগরহার প্রদেশে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার কারণে। এই প্রদেশটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তঘেঁষা।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য ত্রাণ সংস্থা সতর্ক করেছে, ২০২৬ সালেও আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংকটের মুখে থাকা দেশগুলোর একটি হিসেবেই রয়ে যেতে পারে।

এফএ