images

আন্তর্জাতিক

নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্বল্প পাল্লার আধা-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রলয়-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। গত ৬ মাসের মধ্যে এটি ছিল প্রলয়-এর দ্বিতীয় সফল পরীক্ষা। 

গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে পরপর দুটো প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করা হয়, যা বঙ্গোপসাগরে আছড়ে পড়ে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এবারের পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির স্যালভো লঞ্চ বা জোড়া উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট লঞ্চার থেকে অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় এবং উভয়ই অত্যন্ত নির্ভুলভাবে বঙ্গোপসাগরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরি করেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রলয় একটি অত্যাধুনিক, আধা ব্যালিস্টিক, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, যা যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভূল আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

ডিআরডিও সূত্রে জানা গেছে, ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ‘প্রলয়’ একটি কঠিন জ্বালানিভিত্তিক কোয়াজি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আধুনিক গাইডেন্স ও নেভিগেশন ব্যবস্থার কারণে এটি খুব কম সময়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারে এবং একই সঙ্গে মাঝ-আকাশে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে শত্রুপক্ষের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে ফাঁকি দিতে পারে।

এছাড়াও একাধিক ধরনের ওয়ারহেড বহনের ক্ষমতা থাকায় যুদ্ধক্ষেত্রে নানা ধরনের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ডিআরডিও-র বিজ্ঞানীরা।

এরআগে গত ২৮ ও ২৯ জুলাই ওড়িশা উপকূলের ড. এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

এদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরে পারমাণবিক সক্ষম সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপিত একটি মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় নয়াদিল্লি। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, অন্ধ্র প্রদেশর বন্দরনগরী বিশাখাপত্তনমের উপকূলে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ‘আইএনএস আরিঘাট’ থেকে ‘কে-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। ৩,৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সমুদ্র-ভিত্তিক পারমাণবিক আক্রমণ ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে। 
 
কে-৪ সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (এসএলবিএম) গত বছরের ২৯ আগস্ট ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রের তলদেশ থেকে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম দেশগুলোর একটি ছোট গ্রুপের অংশ হয়ে ওঠে ভারত। 

সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

এমএইচআর