images

আন্তর্জাতিক

টানেলে আটকে পড়া সব হামাস যোদ্ধাকে হত্যার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:২৬ পিএম

গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রম্পের মধ্যস্ততায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পরও গাজার উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে দখলদার বাহিনী। এতে সেখানে মাটির নিচে টানেলের ভেতরে হামাসের প্রায় ২০০ যোদ্ধা আটকা পড়েন। তাদের জীবিত বের করে গাজার অভ্যন্তরে বা অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ব্যাপারে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর আলোচনা চলছে।

ইসরায়েল শর্ত দিয়েছে, সুড়ঙ্গে আটকে থাকা যোদ্ধাদের আগে তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস এবং তাদের যোদ্ধারা কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এরমধ্যেই ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪ নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই রাফাহ শহরে টানেলে আটকে পড়া ২০০ হামাস যোদ্ধার সবাইকে হত্যা করেছে। 

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো জোন’ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে এবং সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরো জোরদার করবে।

এদিকে গত রোববার এক বিবৃতিতে রাফাহ শহরের কাছে একটি টানেলকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে গত সপ্তাহে ৪০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যা করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। 

এছাড়াও শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পূর্ব রাফাহ’র দুটি পৃথক স্থানে সুড়ঙ্গ থেকে প্রায় ১৫ জন হামাস যোদ্ধা বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। স্থল বাহিনীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী হামলা চালালে ছয় হামাস যোদ্ধা নিহত হয়। 

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, আইডিএফের নাহাল ব্রিগেড আরও পাঁচ হামাস যোদ্ধাকে আটক করেছে এবং পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে নিয়ে গেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট।

যদিও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও গণমাধ্যমের এসব দাবির বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে হামাস সূত্র জানিয়েছে, টানেলে আটকে পড়া যোদ্ধার সঙ্গে গত কয়েকমাস ধরেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া তাদের কাছে খাবার ও পানিও নেই। আটকে পড়া যোদ্ধাদের কয়েকজন বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদাররা। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

এরআগে গত বুধবার হামাস প্রথমবারের মতো স্বীকার করে তাদের যোদ্ধারা রাফার সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন। ওই সময় তাদের নিরাপদ প্রস্থানের দাবি জানায় সশস্ত্র এ গোষ্ঠী।

এক বিবৃতিতে বলে, ‘আমাদের যোদ্ধাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য আমরা ইসরায়েলকে দায়ী করছি। আমাদের সন্তানরা যেন বাড়িতে ফিরতে পারে সে ব্যবস্থা করতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি।’

সূত্র: টিআরটি, মিডল ইস্ট আই, আলাজাজিরা

এমএইচআর