আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী ও ধনকুবের প্রয়াত জেফরি এপস্টেইন যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পিঁছু ছাড়ছেন না। এবার অন্তত ৪০ জন নারীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে অভিযুক্ত সেই এপস্টেইনের নিজস্ব বিমানে নাকি বর্তমাস ফার্স্ট লেডি ও ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ‘নগ্ন ফোটোশুট’ করেছিলেন বলে গুঞ্জন উঠেছে! এমনকি সেই ফোটোশুটের বেশকিছু ছবি সম্প্রতি সামাাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে দেশটির রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, এপস্টেইনের বিমানে সত্যিই নগ্ন হয়ে ছবি তুলিয়েছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক মডেল মেলানিয়া?
জানা গেছে, মেলানিয়ার যে ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন কাহিনি ছড়িয়েছে, সেগুলো অর্ধসত্য। ছবি স্বল্পবসনা নারীটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলেনিয়ার এ কথা সত্যি। ছবিটি এআই বা অন্য কোনও প্রযুক্তি দিয়ে বিকৃতও করা হয়নি। ভাইরাল হওয়া ছবিটি আসল। তবে তিনি সেই ‘নগ্ন ফোটোশুট’ করেছিলেন এপস্টেইনের বিমানে নয়, ফোটোশুট হয়েছিল ট্রাম্পের নিজস্ব বিমানে। তবে এ সব ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগে। তখন তিনি তখন উঠতি মডেল এবং ট্রাম্পের প্রেমিকা।
সামাাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল মেলানিয়ার অর্ধনগ্ন ছবি নিয়ে বিরোধী দল ডেমোক্রাটদের দাবি, মার্কির ফার্স্ট লেডির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল যৌন অপরাধী এপস্টেইনের।
মেলানিয়ার ওই ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০০০ সালে। বিখ্যাত মার্কিন ম্যাগাজিন জিকিউ-এর সেই বছরের জানুয়ারি সংস্করণে ছাপা হয়েছিল মেলেনিয়ার ‘নগ্ন’ ছবিগুলো। চিত্রগ্রাহক ছিলেন অ্যান্টোইন ভার্গলাস। ছবি তোলার জায়গা, ট্রাম্পের বোয়িং ৭২৭ বিমান।
২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ট্রাম্পের নির্বাচনী বিজয়ের দিন জিকিউ আবার ওই ছবিটি প্রকাশ্যে আনে। দীর্ঘ ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘১৬ বছর আগে আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৎকালীন বান্ধবী মেলানিয়া নাউসের প্রোফাইল তৈরি করেছিলাম। বর্তমান ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া প্রেসিডেন্টের কাস্টমাইজড বোয়িং ৭২৭ বিমানে ছিলেন। ফোটোশুটের জন্য তাকে হাতকড়া পরানো হয়। পরনে ছিল হীরার খচিত অলঙ্কার এবং হাতে ক্রোম পিস্তল...।’
এখন ছবি-বিতর্কে জিকিউ-এর সম্পাদক ডিলান জোন্সের মন্তব্য, ‘২০০০ সালের জানুয়ারিতে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে আমাদের ম্যাগাজিনের নগ্ন ছবি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। এর কারণ হল, ২০১৬ সালের মার্চে আর্কাইভ থেকে বেশ কিছু ছবি আমরা অনলাইনে প্রকাশ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেলানিয়া জিকিউ-তে কাজ করতে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পও অনুরোধ করেছিলেন, ছবিগুলো তার অফিসে পৌঁছে দেওয়া হোক। আমরা প্রচ্ছদ এবং কিছু প্রিন্ট ফ্রেম করে তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।’
এদিকে ছবি নিয়ে বিতর্কে প্রতিক্রিয়ায় মেলানিয়া বলেছেন, ‘আমায় প্রশ্ন করা হচ্ছে, কেন আমি আমার ‘ন্যুড মডেলিং’-এর জন্য গর্বিত। আসলে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, কেন ফ্যাশন ফোটোশুটে নিজের রূপের উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি?’
তিনি বলেন, ‘আমরা কি আর মানবদেহের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারছি না? আমাদের ইতিহাস দেখুন। কত গুণী শিল্পী মানব শরীরকে কত আবেগ এবং উপলব্ধি দিয়ে গড়েছেন। সেগুলো বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত। আমাদের প্রত্যেকের উচিত, নিজেদের শরীরকে সম্মান করা এবং শিল্পের আত্মপ্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের চিরন্তন ঐতিহ্যকে আলিঙ্গন করা।’
এমএইচআর