আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:২৮ পিএম
পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগারা মারা গেছেন এমন একটি গুঞ্জন গত কয়েকদিন ধরে চলছে। এ নিয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এই বিক্ষোভ ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এর মধ্যেই ইমরান খানের বোন উজমা খানুমকে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিয়েছে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে উজমা তার ভাই ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে আদিয়াল কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় তার সঙ্গে আসা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অন্য দুই বোন আলেমা খান এবং নওরীন নিয়াজি এবং পিটিআই-এর নেতাকর্মীরা কারাগারের বাইরে অপেক্ষা করেন।
সাক্ষাতের পর কারাগারের বাইরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উজমা বলেন, ‘ইমরান খানের স্বাস্থ্য পুরোপুরি ভালো। তবে তিনি খুব ক্ষুব্ধ এবং তাকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সারাদিন ধরে তার ছোট সেলে আটকে রাখা হচ্ছে, বাইরে যাওয়ার সময় খুবই কম, এমনকি কারাগারের অন্যান্য কয়েদিদের সঙ্গেও কোনও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
উজমা জানান, মাত্র ৩০ মিনিট তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত পিটিআইয়ের প্রধান ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তার সঙ্গে সাক্ষাতে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর ভুয়া খবরও ছড়িয়েছে।
পিটিআইয়ের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে একেবারে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একক কক্ষে বন্দি করে রেখেছে সরকার।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবরের পর থেকে কাউকে ইমরান বা তার স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
এর আগে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের তিন বোন অভিযোগ করেছেন, গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভাইয়ের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তারা সাক্ষাতের দাবি জানাতে গিয়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে পুলিশের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন।
পরবর্তীতে ইমরান খানের ছোট ছেলে অভিযোগ তোলেন তার বাবার ‘জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ নেই’।
গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে এক বিবৃতিতে কাসিম খান বলেছেন, ‘আমার বাবা (ইমরান খান) ৮৪৫ দিন ধরে আটক আছেন এবং গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে একা একটি ‘ডেথ সেল’-এ বন্দি রাখা হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও তার বোন ও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমকি কোনও ফোন কল হয়নি, কোনও দেখা হয়নি এবং তার জীবিত থাকার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।’
এরমধ্যে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর সিনেটর খুররম জিশানের এক মন্তব্যে শেহবাজ শরীফের সরকারের ওপর আরও তীব্র চাপ তৈরি হয়।
পাকিস্তান থেকে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ইমরান খান বেঁচে আছেন এবং বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন। তবে পাকিস্তান ত্যাগের জন্য চাপ দেয়ার কৌশল হিসেবে ইমরান খানকে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সিনেটর জিশান।
খুররম জিশান বলেন, দেশের বর্তমান সরকার ইমরান খানের জনপ্রিয়তায় ভীত। এ কারণে তারা তার কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করতে দেয়নি।
সূত্র: ডন
এমএইচআর