images

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনে শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত এক বছরে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন করেছেন বিভিন্ন দেশের ১ লাখ ১০ হাজার ৫১ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। এই তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ এই হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আশ্রয় আবেদনে শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, ইরিত্রিয়া, ইরান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা। এমনকি প্রতি পাঁচ জন আশ্রয় আবেদনকারীর মধ্যে দুই জন এই পাঁচ দেশের নাগরিক; যা মোট আবেদনকারীর ৩৯ শতাংশ।

image

পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ২২ হাজার থেকে ৪৬ হাজার লোক যুক্তরাজ্যে আশ্রয় দাবি করেছিল। এরপর ২০২১ এর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। সাম্প্রতিক বছরটি রেকর্ডে সর্বোচ্চ, যা ১৯৭৯ সালের মতো এবং ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।  

মূলত ২০২১ সালের আগস্টে তালেবান কর্তৃক কাবুল দখলের পর আফগান নাগরিকদের কাছ থেকে আশ্রয়ের দাবি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতেও এটি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ৩৪ হাজার ৬৫৫ জন আফগান যুক্তরাজ্যে আশ্রয় দাবি করেছেন, যার বেশিরভাগই অনিয়মিত পথ দিয়ে দেশটিতে পৌঁছান। এছাড়াও ২০২১ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া আফগান পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৩৬ হাজার ১৩৩ জন আফগানকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আশ্রয় আবেদন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উভয় দেশ থেকে বেশিরভাগ দাবিদার আশ্রয় দাবি করার আগে ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরে ভারতসহ এই এই নাগরিকদের ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওয়ার্ক এবং স্টাডি ভিসার মাধ্যমে প্রবেশের একটি বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে।

image

পরিসংখ্যান বলছে, আশ্রয়প্রার্থীদের ৪১ শতাংশ (৪৫ হাজার ১৮৩ জন) ছোট নৌকায় এসেছিল; ১১ শতাংশ (১২ হাজার ১৭৬ জন) অন্যান্য অনিয়মিত রুটের মাধ্যমে প্রবেশ করেছে (লরি বা শিপিং কন্টেইনারে বা প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্টেশন ছাড়াই)। আশ্রয়প্রার্থীদের ৩৮ শতাংশ (৪১ হাজার ৪৬১ জন) এর আগে ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন (ইটিএ) প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্টেশনসহ ভিসা বা অন্যান্য ছুটিতে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিল আর ১০ শতাংশ অন্যান্য রুট দিয়ে প্রবেশ করেছে।
 
ইউকে ইমিগ্রেশন বলছে, কিছু আশ্রয়প্রার্থী যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আশ্রয় দাবি করে, অন্যরা আশ্রয় দাবি করার কিছু সময় আগে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে। বৈধ রুটে কিছু আগমনকারীরা তাদের ছুটির সময় বা শেষেও দেখা যায়, তারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক এবং তাই যুক্তরাজ্যে আশ্রয় দাবি করছেন।

আশ্রয় আবেদনের ফলাফল জানার অপেক্ষমান তালিকায় বাংলাদেশিরা রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে। ছয় হাজার ৮৩৮ জন বাংলাদেশি এখনও তাদের আশ্রয় আবেদনের প্রাথমিক ফলাফল জানতে পারেননি। অপেক্ষমান তালিকায় থাকাদের মধ্যে এই সংখ্য সাড়ে সাত শতাংশ। তালিকায় বাংলাদেশের পরে রয়েছেন আফগান (৬৭৮৪ জন) ও ভারতীয়রা (৫০৭৩ জন)।

যুক্তরাজ্য সরকার কী বলছে

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি দেশটির আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এছাড়া সাময়িক সময়ের জন্য শরণার্থী মর্যাদা দেয়ার এবং পরে নিরাপদ বিবেচিত হলে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলেছেন তিনি। ‘অবৈধ অভিবাসী ও অপরাধীদের’ ফেরত নিতে যথেষ্ট সহায়তা না করার অভিযোগ এনে অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর প্রতি ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়া হয়েছে। 

স্বরাষ্ট্র দফতরের ছায়ামন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস স্কাই নিউজকে বলেন, দেশগুলোর কাছে ‘এটি ঠিক করার জন্য এক মাস সময় আছে।’

শুধু এই তিন দেশ নয়, অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধেও একই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করার কথা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয়আবেদনের হার বেশি এবং ফেরত নেওয়ার নীতির ক্ষেত্রে যারা সহায়তা করবে না তাদের উপর ‘জরুরি নিষেধাজ্ঞার’ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার। 

সূত্র: গভ.ইউকে, ইনফোমাইগ্রেন্টস 


 
-এমএইচআর