images

আন্তর্জাতিক

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৯ পিএম

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’র প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ২১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি)। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ২১৮ জন। এএফপির খবর।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। উপড়ে পড়া গাছ ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলো পরিষ্কার করতে ত্রাণকর্মীরা কাজ শুরু করায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে।

শনিবার থেকে কেলানি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কলম্বোর উত্তরাঞ্চল তলিয়ে যায়। বাধ্যতামূলকভাবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। ডিএমসি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মূল এলাকা থেকে সরে গেলেও উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে নতুন করে বন্যা দেখা দিচ্ছে।

উদ্ধার কাজও চলছে সমানতালে। ভারত থেকে আসা একটি হেলিকপ্টার রোববার ২৪ জনকে উদ্ধার করে, যাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী ও একজন হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তি ছিলেন। তারা কলম্বো থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের কোটমালে শহরে আটকা পড়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, পাকিস্তানও উদ্ধারকারী দল পাঠাচ্ছে এবং জাপান জরুরি সহযোগিতা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বিমানবাহিনী আরও জানিয়েছে, শনিবার প্লাবিত চিলাও শহরের একটি হাসপাতাল থেকে তারা দুই নবজাতক ও ১০ বছরের একটি শিশুকে উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজধানী কলম্বোতে পানি নামতে কমপক্ষে আরও একদিন লাগবে। এর মধ্যে আবহাওয়া বিভাগ শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া ইতোমধ্যে ভারতের অভিমুখে সরে গেছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বোর উপশহর ওয়েন্নাওয়াট্টের বাসিন্দা সেলভি (৪৬) বলেন, আমার বাড়ি পুরোপুরি পানিতে ডুবে গেছে। কোথায় যাব জানি না। আশা করি পরিবার নিয়ে আশ্রয়ের জন্য কোথাও জায়গা পাওয়া যাবে।

/এএস