images

আন্তর্জাতিক

বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, প্রাণহানি ছাড়াল ৩০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২১ পিএম

টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ— ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং ভিয়েতনাম। দেশগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে প্রাণহানি ও ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। 

কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপে বন্যা ও ভূমিধসে এক সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আরও প্রায় ৮০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি)। 

শুক্রবার বিএনপিবি প্রধান সুহারিয়ানতো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজ বিকেল পর্যন্ত, আমরা সমগ্র উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ১১৬ জন, আচেহ প্রদেশে ৩৫ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রায় আরও ২৩ জনের মৃত্যু রেকর্ড করেছি।’  

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টিপাত থেমে গেলেও ৭৯ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। এতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

image

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেটিক নিউজের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা বর্ষণে নদীগুলো উপচে পড়ে কিছু অঞ্চলে বন্যার পানি বিপজ্জনকভাবে উচ্চ স্তরে রয়ে গেছে। কিছু আবাসিক এলাকা ৩ মিটার (প্রায় ১০ ফুট) পর্যন্ত পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে রাস্তাঘাটের অনেক যানবাহন আটকা পড়েছে, তাই উদ্ধারকারী দল আটকে পড়া বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ১০টি প্রদেশে বন্যায় কমপক্ষে ১৪৫ জন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এসব প্রদেশের মোট ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশটির দক্ষিণের ১০টি প্রদেশে বন্যা আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী বাণিজ্যিক কেন্দ্র হাট ইয়াই শহর, যেখানে ৩০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে— একদিনে ৩৩৫ মিলিমিটার। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, হাট ইয়াই শহরের যানবাহন ও ঘরবাড়ি ডুবে আছে, আর হাজার হাজার বাসিন্দারা তাদের বাড়ির ছাদে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

image

শুক্রবার অবশেষে বৃষ্টিপাত থেমে গেলেও শহরটির বেশিরভাগ এলাকা এখনও বন্যার পানিতে ডুবে আছে এবং বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডের প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ার সাতটি রাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছেন। 

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ডের ২৫টিরও বেশি বন্যা কবলিত হোটেলে আটকে পড়া ১ হাজার ৪৫৯ জন মালয়েশিয়ান নাগরিককে সরিয়ে নিয়েছে এবং বন্যা অঞ্চলে আটকে থাকা বাকি ৩০০ জনকে উদ্ধারের জন্য কাজ করবে।

পৃথকভাবে দক্ষিণ এশীয় দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় বন্যা- ভূমিধসে কমপক্ষে ৫৬ জনের মৃত্যু এবং আরও ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। 

স্থানীয় ইংরেজি সংবাদপত্র ডেইলি মিরর জানিয়েছে, ১৭ নভেম্বর থেকে ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যার পানি বৃদ্ধি এবং ক্রমাগত ভূমিধস অব্যাহত রয়েছে। এতে দেশটির ১৭টি জেলার ৪৩ হাজারের বেশি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বাত্তিকালোয়া জেলায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা বছরের এক সময়ের জন্য সর্বোচ্চ।

image

লঙ্কান সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) পূর্বে দেশের কেন্দ্রীয় প্রদেশের চা উৎপাদনকারী পাহাড়ি অঞ্চল বাদুল্লা এবং নুওয়ারা এলিয়া জেলায় ২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই এলাকায় ভূমিধসের কারণে আরও ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাতের ফলে অনেক জলাধার এবং নদী উপচে পড়ছে, যার ফলে রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রদেশগুলোকে সংযুক্তকারী কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বাদুল্লা এবং নুওয়ারা এলিয়াসহ ৮টি পাহাড়ি জেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করেছে। এসব জেলার বাসিন্দাদের উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও ভিয়েতনামে বন্যায় এক সপ্তাহে কমপক্ষে ৯৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু

এমএইচআর