Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৩৭ পিএম

ইরানের ওপর ফের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ (বৃহস্পতিবার ) যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মানববিহীন বিমান (ইউএভি) উৎপাদনকে সহায়তা দেওয়া একাধিক ক্রয় নেটওয়ার্কে জড়িত ৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, চীন, হংকং, ভারত, জার্মানি ও ইউক্রেনে অবস্থিত বলে মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এই অভিযোগের জবাবে ইরান বহুবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রকৃতির।

উল্লেখ্য, ১৯৮০-এর দশকে ইরানের ওপর জোরপূর্বক আরোপিত যুদ্ধের সময় সময় ইরানের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হাসান তেহরানি মোকাদ্দাম। বুধবার ( ১২ নভেম্বর) ছিল তার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী।

মোকাদ্দাম প্রশিক্ষণ দেন অসংখ্য এয়ারোস্পেস কমান্ডারকে, যারা পরবর্তীতে তার পথ অনুসরণ করেন।

১৯৫৯ সালে তেহরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের সারচেশমেহ এলাকায় জন্ম নেওয়া মোকাদ্দাম ১৯৭৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। 

১৯৭৯ সালে তিনি শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং দুই বছর পর খাজে নাসিরউদ্দিন তুসি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার ২১ বছর বয়সে, যখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তিনি উত্তর ইরানের তৃতীয় অঞ্চলের গোয়েন্দা বিভাগে একজন তরুণ ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন।

১৯৮১ সালে পশ্চিমা শক্তির সমর্থিত ইরাকি বাথ পার্টি বাহিনীর হাত থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম খুজেস্তানের আবাদান শহর মুক্ত করার সফল ‘সামেন-ওল-আইমা’ অভিযানের পর, তিনি ফ্রন্টলাইনকে শক্তিশালী করার তীব্র প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।

এর ফলে তিনি একটি পরিকল্পনা তৈরি করে তৎকালীন আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান হাসান বাগেরির কাছে উপস্থাপন করেন। তার প্রস্তাব অনুসারে আইআরজিসির আর্টিলারি কর্পস ও আহভাজে একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

তেহরানি মোকাদ্দাম আইআরজিসির আর্টিলারি ইউনিট গঠনে নেতৃত্ব দেন, যেখানে ১৫৫ মিমি ও ১৩০ মিমি ট্র্যাকশন শেলসহ পর্তুগিজ ১০৫ মিমি শেল ব্যবহৃত হয়।

১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, যখন ইরাক পশ্চিমা শক্তির (বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের) সহায়তায় ইরানি শহরগুলোর ওপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছিল, তখন ইরান সীমিত বিদেশি সহায়তা নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেয়।

তার দূরদর্শী নেতৃত্বে আইআরজিসি নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরানের প্রথম স্বদেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করে। ১৯৮৫ সালের মার্চে ইরাকের কিরকুক শহরে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি বাগদাদের ১৮ তলা সামরিক ভবনে আঘাত হানে, এবং পরেরটি ইরাকি সেনা কর্মকর্তাদের ক্লাবে বিস্ফোরিত হয়ে প্রায় ২০০ বাথ পার্টির সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করে। এভাবেই মার্কিন বাধা উপেক্ষা করে সমরাস্ত্রে এগিয়ে যেতে থাকে ইরান।

-এমএমএস