আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম
পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ হয়েছে। ওই অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা না হলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মকর্তা।
ইরাকে নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, এবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩২৯ আসনের বিপরীতে মোট ৭ হাজার ৭৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যার মধ্যে ২ হাজার ২৪৭ জন নারী।
বুধবার এক বিবৃতিতে কমিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার ১ কোটি ৯ লাখ ৪ হাজার ৬৩৭ জন নাগরিক ভোট দিয়েছেন। এর আগে রোববার একটি বিশেষ ভোটদানের মাধ্যমে ১০ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৯ জন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মী এবং ২০ হাজার ৫২৭ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ভোট দিয়েছেন। এতে চূড়ান্ত ভোটদানের হার ৫৬ দশমিক ১১ শতাংশে পৌঁছেছে।
রয়টার্স বলছে, ইরাকের বেশিরভাগ তরুণ ভোটার এই নির্বাচনকে শুধু প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর দেশের তেল সম্পদ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করার একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
তবে দ্বিতীয় বারের মতো ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন, যিনি কয়েক দশক ধরে চলা অস্থিতিশীলতার পর ইরাককে স্থিতিশীল করতে সফল হয়েছেন।
সুদানি যুক্তি দিয়েছিলেন, তিনি প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছিলেন যারা তাকে ক্ষমতায় এনেছিল।
এই নির্বাচনকে একটি ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একত্রীকরণ’ হিসাবে বর্ণনা করে তিনি আরও দাবি করেন তার সরকার সফলভাবে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজন করেছে।
ভোটগ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে সুদানি বলেছেন, ‘আবারও আমাদের সাহসী ইরাকি জনগণ... বৃহত্তর স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতির দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে।’
বর্তমান সংসদীয় মেয়াদ ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি শুরু হয় এবং চার বছর স্থায়ী হয়। ইরাকি আইন অনুসারে, আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৪৫ দিন আগে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
প্রসঙ্গত, ৩২৯ সদস্যের ইরাকি পার্লামেন্টে কোনও দলই এককভাবে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় না, তাই সরকার গঠনে দলগুলোকে জোট তৈরি করতে হয়, যা একটি জটিল প্রক্রিয়া যা প্রায়শই অনেক মাস সময় নেয়।
বর্তমান পার্লামেন্টে শিয়াপ্রধান দল এবং জোটগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ইরাকের ক্ষমতা ঐতিহ্যগতভাবে দেশের প্রধান সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিভক্ত: প্রেসিডেন্ট পদ কুর্দিদের হাতে, প্রধানমন্ত্রী পদ শিয়াদের হাতে এবং সংসদের স্পিকারের পদ সুন্নিদের হাতে থাকে।
সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু
এমএমইআর