২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:১০ এএম
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল ফ্রান্স। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে এক অনুষ্ঠানে সোমবার এই ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ । এর আগে রোববার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল। ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ধারা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, “এখনই সময় গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করার এবং হামাসের হাতে আটক থাকা ৪৮ জন জিম্মিকে মুক্ত করার।” বিশ্ব শান্তি এখন ‘মাত্র কয়েক মুহূর্ত’ দূরে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা আর অপেক্ষা করতে পারি না।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা জানাই। তবে কোনো কিছুই চলমান যুদ্ধকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। শান্তির পথ হচ্ছে দুটি রাষ্ট্র গঠন।” এ সময় তিনি অস্ট্রেলিয়া, আন্ডোরা, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সান মারিনোর মতো দেশগুলোর নাম উল্লেখ করেন, যারা ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আরও স্বীকৃতি দিচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব
ম্যাক্রোঁ জানান, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনও শিগগিরই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে রয়েছে।
১৯৮৮ সালে ইয়াসির আরাফাতের ঘোষণার পর থেকে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৫০টির বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
গাজায় থামছে না হামলা, নিহত আরও ৩৭
এদিকে, ফ্রান্সের এই স্বীকৃতির মধ্যেই গাজায় অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা। সোমবার দিনভর বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৭ জন ফিলিস্তিনি।
গত দুই বছরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৩৪৪ জনে, আহত ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৯৫ জন। নিখোঁজ বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার শিশু রয়েছে।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের তথ্য অনুসারে, গাজায় প্রায় ৮০ শতাংশ ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ধ্বংস হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৯৫টি স্থাপনা—এর মধ্যে রয়েছে ২১৩টি হাসপাতাল এবং ১ হাজার ২৯টি স্কুল, যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা।
ইসরায়েলের হুমকি: পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা
এমন সময়, যখন পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, তখন ইসরায়েল পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পশ্চিম তীরের কিছু অংশ নিজের ভূখণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, “ব্রিটেন বা অন্য দেশগুলোর আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার দিন শেষ হয়ে গেছে।”
এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে—পশ্চিম তীরের দখল ন্যায্য হতে পারে না।”
দুই রাষ্ট্র সমাধানে নতুন গতি?
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনকে একের পর এক পশ্চিমা দেশের স্বীকৃতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রক্রিয়াকে নতুন করে জোরদার করতে পারে। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি এই সমাধানের ভিত্তি তৈরি করেছিল। যদিও ইসরায়েলের মিত্রদের অনাগ্রহ এবং আগ্রাসনের কারণে এই উদ্যোগ কখনো বাস্তব রূপ পায়নি।
তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক সমর্থন অন্তত একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে—বিশ্ব এখন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও অধিকারের বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি সোচ্চার।
গাজার বাসিন্দা নাবিল জাবের হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘স্বীকৃতি পেলেও আমাদের ওপর বোমা পড়া বন্ধ হয়নি। মনে হয় না ইসরায়েলের ওপর বড় কোনো চাপ পড়বে।’
/ একেবি/