Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ জুলাই ২০২৫, ০৪:২৮ পিএম

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। 

শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানী কুয়ালালামপুরে দেশটির জাতীয় মসজিদ নেগারার সামনে জড়ো হয়ে হাজার হাজার মানুষকে ‌‘পদত্যাগ, পদত্যাগ, আনোয়ারের পদত্যাগ’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে, তাদের বেশিরভাগই কালো কাপড় পড়ে আছেন।  

সেখান থেকে ‘জাগো, জাগো, জনগণ জাগো’ স্লোগানে বিক্ষোভকারীদের কুয়ালালামপুরের স্বাধীনতা স্কয়ারের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়, যেখানে আনোয়ার ইব্রাহীমের পদত্যাগের দাবিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হবে। 

mal

দেশটির বিরোধীদলীয় জোট পেরিকাতান ন্যাশনাল (পিএন) সমর্থিত এই সমাবেশে ক্ল্যাং ভ্যালির বাইরের অঞ্চল থেকেও হাজার হাজার মানুষকে বাসে করে আনা হয়েছে। এতে দেশটির ছোট ছোট কয়েকটি বিরোধী দল ও মালয়-ভিত্তিক বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী অংশ নিয়েছে।

বিক্ষোভে কুয়ালামপুরে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

সমাবেশের মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত আছেন দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ও মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। এছাড়াও পার্টি ইসলাম মালয়েশিয়ার (পিএএস) প্রেসিডেন্ট আব্দুল হাদি আওয়াং যোগ দিয়েছেন এই সমাবেশে।

মূলত, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে না পারা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে ব্যর্থ হওয়ায় আনোয়ার ইব্রাহিমের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। 

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন আনোয়ার ইব্রাহিম। তার মেয়াদকালে দেশটিতে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে সাধারণ জনগণের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 

এদিকে জনরোষ কমাতে গত বুধবার দেশের সব প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককে নগদ অর্থ সহায়তা ও জ্বালানির দামও কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহীম।

তিনি বলেন, দেশে ১৮ বছরের ওপরের প্রত্যেক নাগরিককে এককালীন ১০০ রিঙ্গিত সহায়তা দেওয়া হবে, আগামী ৩১ আগস্ট থেকে বিতরণ শুরু হবে। সরকার ২০২৫ সালে মোট ১৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত (৩.৫৫ বিলিয়ন ডলার) নগদ সহায়তা ব্যয় করবে, যা এই বছরের বাজেটের চেয়ে ২ বিলিয়ন রিঙ্গিত বেশি।

তবে সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারের আয় বৃদ্ধির চেষ্টার প্রভাব মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ব্যক্তিদেরসহ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়বে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

এমএইচআর