images

আন্তর্জাতিক

ভূমিকম্পের পরও বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ মার্চ ২০২৫, ১২:১৭ পিএম

images

মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ এখনও কাটেনি, চলছে উদ্ধার কাজ। ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটিতে ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় এক হাজার ৭০০। 

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের রেশ না কাটতেই বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালাল দেশটির জান্তা বাহিনী। বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে তারা। খবর বিবিসির।

জান্তা বাহিনীর এ হামলাকে বর্বর ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। বৈশ্বিক সংস্থাটির বিশেষ প্রতিবেদক টম এনড্রস বলেন, যখন সবাই উদ্ধার কাজে ব্যস্ত ঠিক তখনই সামরিক বাহিনী বোমা ফেলছে। এটা নিঃসন্দেহে অগ্রহণযোগ্য।

চার বছর আগে ক্ষমতায় আসা জান্তা সরকারকে হামলা বন্ধের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন টম। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর যাদের প্রভাব আছে তাদের চাপ বাড়াতে হবে এবং স্পষ্ট করে বলতে হবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। আমি জান্তাকে বলতে চাই, আপনারা থামুন।

জান্তা বাহিনীর হামলায় সাতজন মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি। গণমাধ্যমটি বলছে, শান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের নাউনচোতে ভূমিকম্পের তিন ঘণ্টা পর হামলা চালানো হয়। এছাড়া থাইল্যান্ড সীমান্তেও বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। 

মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র যোদ্ধারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে থাকবে। ভূমিকম্পের জেরে তারা দুই সপ্তাহ হামলা চালাবে না, যা শুরু হবে রোববার থেকে।

গত শুক্রবার মিয়ানমারের মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। 

এতে সাগাইং, মান্দালয়, নেইপিদোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাগাইংয়ে শত বছরের পুরোনো একটি সেতু ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ভবন ও মসজিদ ধ্বংস হয়েছে।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, শুক্রবারের ভূমিকম্পে অন্তত এক হাজার ৬০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার। নিখোঁজ রয়েছে ১৩৯ জন।

-এমএমএস