ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৪:৫৫ পিএম
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে বা গোপনে চালিয়ে আসছে। এই নীতির পেছনে রয়েছে সামরিক অভিযান, কূটনৈতিক চাল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ভেতর বিভাজন সৃষ্টি। এ লেখায় ইসরায়েলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কৌশল ও তার পরিণতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার শাসনামলে ইসরায়েলের শক্তিমত্তা বৃদ্ধির জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার ভাষণে তিনি ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তার ও তার নিজের নেতৃত্বের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইসরায়েল ‘চিরকাল’ টিকে থাকবে, তবে তার সাফল্য অনেকাংশে তার নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করে।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার গড়ে তোলার প্রচেষ্টা স্পষ্ট। তার লক্ষ্য হলো, নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে নিরপেক্ষ বা অধস্তন অবস্থানে নিয়ে আসা।
ইসরায়েলের গোলান মালভূমি দখলের মাধ্যমে সিরিয়ায় তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন নয়। ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তি ইসরায়েলের জন্য শান্তি বজায় রাখার একটি মাধ্যম ছিল। তবে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে উস্কে দিয়ে এবং সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইসরায়েল সিরিয়ার স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করার চেষ্টা করেছে।

ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো সিরিয়াকে একটি দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত করা, যা তার কৌশলগত ক্ষমতার জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করবে না।
লেবানন ও ফিলিস্তিন ইসরায়েলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাজা উপত্যকার ওপর নিয়ন্ত্রণ, পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ দমন করার মাধ্যমে ইসরায়েল তার অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলের অন্যতম কৌশল হলো সংখ্যালঘু রাষ্ট্র গঠন ও তাদের সঙ্গে জোট গড়ে তোলা। উদাহরণস্বরূপ, কুর্দি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা। এই প্রকল্প ১৯৬০ সাল থেকে শুরু হয়, যা এখনো কার্যকর করার প্রচেষ্টা চলছে। এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের আরব ঐক্যকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে তৈরি।
ইসরায়েল-ইরান দ্বন্দ্ব মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আরেকটি উদাহরণ। ইসরায়েল তার সামরিক শক্তি এবং গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি এবং এক পক্ষকে সমর্থন দিয়ে অন্য পক্ষকে বিপদে ফেলার কৌশল ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী নীতির অংশ।

ইসরায়েল তার দখলকৃত ভূমি একটি আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। ‘শান্তির জন্য ভূমি’ নীতির আওতায় ভবিষ্যৎ চুক্তি করতে চায়, যা মূলত অন্য দেশগুলোর ওপর আধিপত্য আরোপের একটি উপায়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আধিপত্য বিস্তারের কৌশল একটি সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা। সামরিক অভিযান, কূটনৈতিক চাল এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল করার মাধ্যমে ইসরায়েল তার লক্ষ্য পূরণে অগ্রসর হচ্ছে। এই নীতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা বাড়ছে, যা সমগ্র অঞ্চলের জন্য হুমকি স্বরূপ।
লেখক: কলামিস্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক