Dhaka Mail Logo

তথ্য-প্রযুক্তি

এসিতে প্রতি মাসে ঠিক কত টাকার বিদ্যুৎ বিল আসে?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:২৮ পিএম

বর্তমান সময়ে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার প্রায় প্রতিটি পরিবারের জন্যই একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। ঘর ঠান্ডা রাখতে এসির জুড়ি মেলা ভার হলেও মাস শেষে বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল দেখে অনেকেরই কপালে হাত পড়ে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে সকলের মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে, তা হলো এসি চালালে আসলে প্রতি মাসে ঠিক কত টাকার বিদ্যুৎ বিল আসে?

এসির বিদ্যুৎ বিল মূলত কিসের ওপর নির্ভর করে?

একটি এসিতে প্রতি মাসে ঠিক কত টাকা খরচ হবে, তা কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কে বাঁধা নয়। এটি মূলত নির্ভর করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। এসির টন ক্ষমতা (যেমন ১ টন, ১.৫ টন বা ২ টন), ইনভার্টার প্রযুক্তি রয়েছে কি না, স্টার রেটিং (অফিসিয়াল এনার্জি রেটিং), প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা এসি চালানো হচ্ছে এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার প্রতি ইউনিটের ট্যারিফ বা দাম কত, তার ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত বিল নির্ধারিত হয়। এছাড়া এসির তাপমাত্রা কততে সেট করা আছে এবং ঘরের ইনসুলেশন কেমন, তার ওপরও খরচ কমবেশি হয়।

মাসিক খরচের একটি আনুমানিক হিসাব

বাজারচলতি ১.৫ টনের একটি সাধারণ নন-ইনভার্টার এসি যদি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা করে একটানা চালানো হয়, তবে এটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১.৫ থেকে ২ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। সেই হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৮ ইউনিট এবং মাসে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ পোড়ে। যদি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১২ থেকে ১৪ টাকা করে ধরা হয়, তবে কেবল একটি এসির জন্যই মাস শেষে অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল চলে আসতে পারে।

এর বিপরীতে, আপনি যদি আধুনিক ইনভার্টার টেকনোলজিযুক্ত ফাইভ-স্টার রেটিংয়ের এসি ব্যবহার করেন, তবে কম্প্রেসার প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি খরচ করায় বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমে আসে। সে ক্ষেত্রে একই সময় এসি চালালেও মাসিক বিল প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে সীমিত রাখা সম্ভব।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু কার্যকরী উপায়

এসির কারণে যেন পকেটে অতিরিক্ত টান না পড়ে, সে জন্য কিছু ছোট নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এসির তাপমাত্রা সবসময় ২৪ বা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এতে কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। ঘরের দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখা এবং নিয়মিত এসি ও এর ফিল্টার পরিষ্কার রাখলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এ ছাড়া রিমোট দিয়ে এসি বন্ধ করার পর অবশ্যই মেইন সুইচ থেকে লাইন অফ করে দেওয়া উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করা যায়।

সঠিক নিয়ম মেনে এসি ব্যবহার করলে এবং একটু সচেতন হলে যেমন কাঙ্ক্ষিত ঠান্ডা পরিবেশ পাওয়া সম্ভব, তেমনই মাস শেষে বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিলের হাত থেকেও সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়।

এজেড