আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৩৮ পিএম
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে অনুষ্টিত হবে জাতীয় নির্বাচন। এ নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ভারত। তবে ভারতের সাবেক আইএফএস, আইপিএস ও সেনা অফিসাররা জানিয়েছেন, ভারতের কাছে আসল বিষয় হলো- পাকিস্তানে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করছে কিনা।
সাবেক আইপিএস অফিসার শান্তনু মুখোপাধ্যায় বলেছেন, 'ভারত তার খুবই কাছের প্রতিবেশী দেশের নির্বাচনের গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখছে। যে সরকারই আসুক না কেন, ভারত দেখবে তার স্থায়িত্ব কতটা এবং ভারতের নিরাপত্তার উপর তার কতটা প্রভাব পড়বে। ভারত কখনই চায় না, নিরাপত্তা নিয়ে তাদের চিন্তাটা বেড়ে যায়।' খবর ডয়চে ভেলের
তিনি জানিয়েছেন, 'ভারত নিরপেক্ষভাবে পাক নির্বাচনের গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখছে। এটা পাকিস্তানের নির্বাচন। সে দেশের মানুষ ভোট দেবে। ভারতের একটাই চিন্তা, তা হলো, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে। সেখানে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সেটাই দেখা হবে।'
আরও পড়ুন: রাত পোহালেই নির্বাচন, কোনদিকে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ?
পাকিস্তানে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত অজয় বিসারিয়া বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'পাকিস্তানের নির্বাচনে কী হবে তা এখনই বলে দেওয়া যায়। পাকিস্তানের সেনা আগে থেকে ঠিক করে রেখেছে কাকে তারা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে চায় এবং সম্ভবত সেই মানুষটি হলেন নওয়াজ শরিফ। তাই ৮ ফেব্রুয়ারি যা হবে, তা ইলেকশন না বলে সিলেকশন বা বাছাই করে নেয়া বলাটাই ভালো।'
বিসারিয়া বলেছেন, 'পাকিস্তানের মধ্যে থেকে যে রিপোর্ট আসছে, তাতে বলা হচ্ছে, সেনা সেখানে প্রাক নির্বাচনী কাজকর্ম করছে। নির্বাচনের পরেও করবে। তারা এমন সরকার চায়, যা সেনার কথায় চলবে। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা নওয়াজ শরিফকেই চায়। ইমরানকে এবার চায় না বলে তাকে বাইরে রাখার সব চেষ্টা হয়েছে। সেনা এমন জোট চায় যা তারা নিয়ন্ত্রণ করবে।'
অজয় বিসারিয়ার সঙ্গে একমত ভারতীয় সেনার সাবেক লেফটন্য়ান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'একটা চালু কথা আছে, আমাদের দেশে একটা সেনাবাহিনী আছে। আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বলা হয়, সেখানে সেনাবাহিনীর একটা দেশ আছে।'
তার মতে, 'এটা তো প্রথমবার এরকম হচ্ছে না। পাকিস্তানের রাজনীতি তো দীর্ঘদিন ধরে সেনাই নিয়ন্ত্রণ করে। পাকিস্তানের গণতন্ত্রকে পশ্চিমা দেশগুলোতে বলে বনসাই গণতন্ত্র। ইমরান খানও তো গতবার সেনার আশীর্বাদে ক্ষমতায় আসতে পেরেছিলেন। তিনি কথা বেশি বলেন, মাথা গরম মানুষ। বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেটার, অন্যতম সেরা অধিনায়ক। ক্রিকেট চর্চার কারণে বলতে পারি, রিচি বেনোর সঙ্গে তার তুলনা চলে। তাকেও সেনাই ক্ষমতায় এনেছিল। মিয়ানমারে একই অবস্থা। শ্রীলঙ্কাতেও প্রায় একইরকম অবস্থা। পাকিস্তানে এমন একটা নির্বাচন হচ্ছে, যার ফলাফল ঘোষণা করা হয়ে গেছে।'
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
বিসারিয়া বলেছেন, 'এবার যদি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হতো, তাহলে ইমরানই আবার ক্ষমতায় আসতেন বা সবচেয়ে বড় দলের নেতা হতেন। কিন্তু তার হাত থেকে শুধু যে ব্যাট নিয়ে নেয়া হয়েছে তাই নয়, তিনবার ক্লিন বোল্ড করে দেওয়া হয়েছে। তিনটি রায় তার বিরুদ্ধে গেছে।'
উৎপল ভট্টাচার্য মনে করেন, 'পাকিস্তানের সঙ্গে টু চ্যানেল ডিপ্লোমেসি চালাতে হবে। নওয়াজের সঙ্গে ভারত অনেকদিন কাজ করেছে। ভারত এখনো যখন কথা বলে, রাওয়ালপিণ্ডি ও ইসলামাবাদ দুজনের সঙ্গেই কথা বলে। ইসলামাবাদ পাকিস্তানকে চালায় না। চালায় রাওয়ালপিণ্ডি।'
তার মতে, 'ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য়ে ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে। ম্যানেজমেন্ট ইফ কোল্ড ওয়ার তো করতেই হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী বলেছিলেন, প্রতিবেশীকে বদলানো যায় না। তাছাড়া ভারত এখন আগের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।'
বিসারিয়া বলেন, 'উদ্য়োগটা পাকিস্তানের তরফ থেকে আসতে হবে। ভারতের ভোটও হয়ে যাওয়ার পর জুন-জুলাইতে কিছু হতে পারে।'
একে