আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:০২ পিএম
যেভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে মৃত্যুও হতে পারত বলে জানান দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, একটি গাড়ি ২০০ কিলোমিটার বেগে তার কনভয়ে ঢুকে পড়েছিল। যে কারণে তার চালক ব্রেক কষতে বাধ্য হন। এখনও মাথা টনটন করছে।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজভবনে থেকে বেরিয়ে তিনি এসব কথা জানান। এসময় মমতা ব্যানার্জির মাথায় ছোট ব্যান্ডেজ বাধা ছিল।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটা গাড়ি আমার গাড়ির সামনে আচমকা চলে আসে। ২০০ কিলোমিটার বেগে ওই গাড়িটা যাচ্ছিল। আমার গাড়ি গলি দিয়ে বের হচ্ছিল। আমার চালক বুদ্ধিমানের মতো জোরে ব্রেক কষে। পুরো ড্যাশবোর্ডটা এসে আমার মাথায় লেগেছে। একটু রক্তও পড়েছে। এখন ফুলে আছে সামান্য।’
মাথায় এখনও ব্যথা করছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাথাটা এখনও টনটন করছে। তাই নিয়েই কাজ করলাম। আমার মনে হচ্ছে জ্বর আসছে। গা গোলাচ্ছে। হালকা ঠান্ডাও লাগছে। এখন একটু বাড়ি যাচ্ছি।’
আরও পড়ুন
ফের দুর্ঘটনার শিকার মমতা
মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘আমার গাড়ির কাচ খোলা ছিল। যদি কাচ বন্ধ থাকত, আমার মৃত্যু হতে পারত। কাচ ভেঙে ড্যাশবোর্ডসহ আমার সারা গায়ে ঢুকে যেত। মানুষের আশীর্বাদে বেঁচে গিয়েছি। আমি ওষুধ খেয়েছি। আপাতত হাসপাতালে যাচ্ছি না।’
কোন গাড়ি মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে ঢুকে পড়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক সময়ে অনেকে অন্য কারও গাড়ি ব্যবহার করে। সে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। আইনের হাতে ছেড়ে দিচ্ছি। এটা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’
এ বিষয়ে পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, ‘কোন গাড়ি মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে ঢুকে পড়েছে, আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
এর আগে, বুধবার বর্ধমানের গোদার মাঠে প্রশাসনিক সভা ছিল মমতার। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে কলকাতায় ফেরার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। হেলিকপ্টারে চড়ে সেখানে গেলেও আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় সড়কপথে কলকাতা ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সভা শেষে কলকাতা ফেরার জন্য গাড়িতে ওঠেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এরপর হঠাৎ গাড়িতে ব্রেক করার ঝাঁকুনিতে কপালে চোট পান তিনি। সেই আঘাত নিয়েই রাজভবনে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে চোট পান মমতা। তারপর কলাইকুণ্ডায় আবারও আঘাত পান কিছুদিন আগে। সেই আঘাত এতটাই গুরতর ছিল যে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয় মমতাকে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসার পর সংক্রমণও হয়ে যায় ক্ষতে। তাতে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
সূত্র: আনন্দবাজার
এমএইচটি