ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৩৫ এএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বন্দোপাধ্যায় বরাবরই ব্যতিক্রম। জনতার সঙ্গে মিশে যেতে পারেন নিমিষেই। এবার পাহাড়ে সফরে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে এমনভাবে মিশে যান, দেখে মনে হচ্ছিল তিনিও একজন চা শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াং মহকুমার মকাইবাড়ি চা বাগানে এই দৃশ্যে দেখা যায় মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। পারিবারিক অনুষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচিতে সাত দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ সফর করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছেলে আবেশের বিয়ে উপলক্ষে কার্শিয়াংয়ে এসে মকাইবাড়ি টি এস্টেটের ম্যানেজারের বাংলোয় উঠেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বিয়ের অনুষ্ঠানে না গেলেও বিয়ের পর নবদম্পতি আসবেন মমতার আশীর্বাদ নিতে। এর আগেই বৃহস্পতিবার সকালে জনসংযোগ কর্মসূচিতে নেমে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন
চা বাগানে পৌঁছেই পাহাড়ি পোশাক পরে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর পিঠে টুকরি নিয়ে বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চা পাতা তুলতে শুরু করেন। প্রথমে অনভ্যস্ত হাতে, পরে শ্রমিকদের শিখিয়ে দেওয়া কায়দায় রপ্ত করে তুলতে থাকেন দুটি পাতা একটি কুঁড়ি। দ্রুত ভরে উঠতে থাকে তাঁর ঝুড়িও।

এ সময় তিনি জানতে চান শ্রমিকদের যাপনের গল্প। জানতে চান কোথায় তাদের বাড়ি, কীভাবে সংসার সামলে কাজ করেন তারা। যে সুর গুনগুন করে শ্রমের ভার লাঘব করেন শুনতে চান সেই সুর। চা শ্রমিকরা গেয়ে শোনান চা পাতা তোলার গান। সুরে মুগ্ধ মমতা তাদের সঙ্গে মেতে উঠতেই বেজে ওঠে মাদল। বাগানে তখন রীতিমতো উৎসবের আবহ।
পরে মমতা বলেন, ‘চা পাতা তোলাটা ওদের কাছে শিখলাম। আমি এখন যেকোনো বাগানে গিয়ে চা পাতা তুলতে পারি।’
ভাইপোর বিয়ের অনুষ্ঠানে শেষে শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং-এ একযোগে গণবণ্টন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন মমতা। তারপর শনিবার ৯ ডিসেম্বর হেলিকপ্টারযোগে আলিপুরদুয়ার পৌঁছে সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। পরদিন রোববার আলিপুরদুয়ারে আরেক গণবণ্টন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। সোমবারেও জলপাইগুড়ির বানারহাটে আরও একটি গণবণ্টন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওইদিন রাতে উত্তরকন্যায় থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর ১২ ডিসেম্বর শিলিগুড়ির কৃষকদের মধ্যে গণবণ্টন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। সেখান থেকে সেদিন বিকেলে কলকাতা ফিরবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
জেবি