images

আন্তর্জাতিক

ফ্লাইট-২২৭ নিয়ে ওয়েব ফিল্ম, সেদিন কী ঘটেছিল সেই বিমানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ জুলাই ২০২৩, ১২:৫৬ পিএম

মানুষ আকর্ষণীয় বা দুঃখজনক ঘটনাগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভুলে যায়। তবে মর্মান্তিক ঘটনাগুলো মানুষের স্মৃতিতে সবচেয়ে বেশি সময় জমা থাকে। পরিচিত বা কাছের কেউ না থাকলেও এসব ঘটনা অনেককে বিচলিত করে। তেমনই একটি ঘটনা ফ্লাইট-২২৭ এর সঙ্গে জড়িত। এই নামে একটি ওয়েব ফিল্ম তৈরি করছেন বাংলাদেশের সিনেমা পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ান। তবে এটি ওই ঘটনা নিয়ে কি না সে বিষয়টি তিনি জানাননি।

আজ থেকে প্রায় ৫৮ বছর আগে, ১১ নভেম্বর ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট ২২৭ দেশটির সল্টলেক সিটিতে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে থাকা ৮৫ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রুর মধ্যে ৪৩ জন নিহত হয়।

ইউনাইটেড এয়ার লাইনসের ফ্লাইট ২২৭ নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া এয়ারপোর্ট (এলজিএ) এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (এসএফও) এর মধ্যে একটি নিয়মিত ফ্লাইট ছিল। এছাড়াও এটি শিকাগো, ডেনভার এবং সল্টলেক বিমানবন্দরেও অবতরণ করতো।

বিধ্বস্ত হওয়ার দিনে বিমানটি ডেনভারে অবতরণ করে এবং সান ফ্রান্সিসকোতে যাত্রা শুরু করার আগে ক্রুদের অদলবদল করা হয়। পরবর্তী যাত্রা ছিল সল্টলেক বিমানবন্দর। তবে ফ্লাইট আকাশে থাকার সময়ে সমস্যা দেখা দেয়।

শেষ পর্যন্ত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে কথা বলে বিমানটি অস্বাভাবিক গতিতে অবতরণ করাতে শুরু করেন পাইলট। শেষ পর্যন্ত রানওয়ে থেকে প্রায় ৩৩৫ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে এটি। বিমানটি সম্পূর্ণ থামার আগে ২,৮৩৮ ফুট পিছলে যায়। আঘাতের কারণে ল্যান্ডিং গিয়ার এবং একটি ইঞ্জিন বিমান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যখন ল্যান্ডিং গিয়ারটি আলাদা হয়ে যায় তখন জ্বালানী লাইনগুলোর একটি ফেটে যায় এবং বিমানটিতে বিস্ফোরণ ঘটে ও আগুনের স্ফূলিঙ্গ তৈরি হয়।

United Airlines Flight 227

দুর্ঘটনায় ধ্বংস হওয়া বিমানটি ছিল বোয়িংয়ের ৭২৭-২০০ মডেলের। এর বয়স ছিল মাত্র নয় মাস। ফ্লাইটের দায়িত্বে ছিলেন ফার্স্ট অফিসার ফিলিপ ই. স্পাইসার। সেকেন্ড অফিসার রোনাল্ড আর. ক্রিস্টেনসেন এবং সহায়তায় ছিলেন ক্যাপ্টেন সি. কেহমিয়ার।

যাত্রীরা জ্বলন্ত আগুনের মধ্য থেকে পালানোর চেষ্টা করে। বিমানে থাকা ৯১ জনের মধ্যে ১৩ জন কোনো আঘাত ছাড়াই বের হতে পারেন। এছাড়া ৩৫ জন আহত হন এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৪৩ জন প্রাণ হারান। এদের মধ্যে ৪১ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহতদের বয়স ছিল ২ থেকে ৬৬ বছর। 

একটি পুরো পরিবার এই ঘটনায় নিহত হন। এছাড়া অন্য একজন তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারান। এখন পর্যন্ত এটি সল্টলেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সবচেয়ে মারাত্মক বাণিজ্যিক বিমান দুর্ঘটনা।

৭ জুন ১৯৬৬ সালে ফ্লাইট ২২৭ এর দুর্ঘটনার কারণ প্রকাশ করা হয়। সিভিল অ্যারোনটিক্স বোর্ড জানায়, অবতরণ পদ্ধতির সমস্যার কারণে বিমানটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে।

তথ্যসূত্র: ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ডেড হিস্টরি ডটকম

একে