Dhaka Mail Logo

অভিবাসন

দেশে দেশে যেভাবে পালিত হয় ঈদ উল আজহা

অভিবাসন ডেস্ক

১৫ জুন ২০২৪, ০১:১৪ পিএম

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদ উল আজহা। মুসমানদের এই উৎসব যেন ত্যাগেরই আরেক নাম। যা কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। বিশ্বজুড়ে উদযাপিত ইসলাম সম্প্রদায়ের অন্যতম বিশেষ উৎসব এটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেসব দেশে মুসলমান ধর্মের মানুষ আছেন তারা এই উৎসব উদযাপন করবেন। 

বিশ্বজুড়ে কীভাবে ঈদ উল আযহা উদযাপিত হয়, জেনে নেওয়া যাক-

মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায়, ঈদ উল আজহা একটি সরকারি ছুটির দিন। ভোরের ঈদের নামাজ পড়ার পর পশু কোরবানি করা হয়। মরোক্কোর বাসিন্দারা, পশু কোরবানির আগে এদের সিংহে মেহেদি দিয়ে রাঙান। 

coking

ইউরোপ-আমেরিকায় ইসলাম ধর্মের মানুষেরা ইসলাম ধর্মের রীতি মেনে এই দিন উদযাপন করেন। এদিন ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো রান্না করে, সকলে একসঙ্গে বসে আনন্দ করে খেয়ে থাকেন।   

মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে পশু কোরবানি, প্রার্থনা ও দান-খয়রাতের মধ্য দিয়ে ঈদ উল আজহা পালন করা হয়।

পাকিস্তানে ঈদুল আজহা চারদিন ধরে উদযাপিত হয়। ঈদের দিন সকালে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের নামাজের জন্য রওনা দেন। তারপরে বাড়ি ফিরে গরু, ছাগল, ভেড়া বা উট কোরবানি করেন। পাকিস্তানে সবাই পালিত পশুই কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করেন।

edi-5

এজন্য অনেক আগ থেকেই পশু কেনাবেচা শুরু হয়। অন্তত একমাস আগে তারা পশু কিনে নিজের যত্ন করেন। সরকারি ছুটি থাকায় যে যার মতো করে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেন। অনেকেই ঘুরতে বের হন।

ভারতীয় মুসলমানরা সাধারণত ঈদুল আজহার জন্য ছাগল বা ভেড়া কোরবানি করে থাকেন। ঈদের নামাজের জন্য সেখানে নির্ধারিত এলাকা আছে। 

inter

আয়তনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠী মূল জনসংখ্যার ১০ শতাংশের কম হলেও (দেড় কোটির মতো), দেশটিতে বেশ কতগুলো প্রদেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই বৈচিত্র্যময় রাশিয়ায় ঈদও পালন হয় প্রদেশভেদে নানা বৈচিত্র্যে। এসব প্রদেশে ঈদের দিনটি ছুটি থাকে। তবে চেচনিয়া ও দাগেস্তান প্রদেশ দুই ঈদের ছুটি ৩ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। চেচনিয়ায় ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই বাড়িঘর একেবারে ঝকঝকে তকতকে করে ফেলা হয়। ঈদের আগের রাতে গৃহিণীরা মিষ্টান্ন আর স্ন্যাকস তৈরি করেন। ঈদের দিন মেয়েদের পোশাক অসম্ভব উজ্জ্বল হয়, যেন তারা কোনো বিয়েবাড়ি বেড়াতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের ভিসা লাগে না যেসব দেশে যেতে

ঈদের নামাজ শেষে মৃত আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ রাশিয়ান মুসলিমদের কাছে।

ranna

পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়াতে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও দেশটির ৫০ লাখেরও বেশি ইসলাম ধর্মালম্বী খুব উদ্দীপনা নিয়ে ঈদ পালন করে। ঐতিহ্যগতভাবে কেনিয়ার মুসলমানরা ঈদের আগে বাড়ি নতুন করে রঙ করে। সেটা সম্ভব না হলেও ঘরের কার্পেট, পর্দা, বিছানা সবকিছুতেই আসে নতুনের ছোয়া।

ঈদের দিনে কেনিয়ানদের কাছে খুব পছন্দের একটি খাবার হলো এমকাতে ওয়া মায়াই (আফ্রিকান স্পঞ্জ কেক)। ঈদের নামাজের পর বাচ্চারা নতুন জামাকাপড় পরে বেরিয়ে পড়ে ঈদির জন্য। তারা সারাদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরতে থাকে, আর প্রতিটি বাড়ি থেকেই হয় টাকা নয়তো কোনো মিষ্টান্ন দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

এজেড