images

হেলথ

উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার বেহাল অবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০১:১২ পিএম

স্বাস্থ্য সেবাকে মানুষের দোরগোড়ার পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো তৃণমূল স্বাস্থ্যখাতের প্রাণ কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেবার বেহাল অবস্থা। শতকরা ৫৯ শতাংশ হাসপাতালে হয় না এক্স-রে। প্রায় অর্ধেক হাসপাতালে নেই রক্ত পরিসঞ্চালনের সুযোগ। এমনকি শতকরা ৬৩ শতাংশ উপজেলা হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাই নেই।

২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ৯ জেলা হাসপাতাল ও ১৭ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর করা এক জরিপে এসব চিত্র উঠে আসে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিক্স বিভাগ।

সোমাবর (২৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ১১ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এক্স-রে ও ইসিজি পরিষেবা নেই। তবে ইসিজি সেবা পাওয়া যাচ্ছে না ২৪ শতাংশ উপজেলায়। শতভাগ জেলা হাসপাতালে রক্ত পরিসঞ্চালন সেবাটি থাকলেও ৪১ দশমিক ২ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাটি পাওয়া যায় না। ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ জেলাতে এবং ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ উপজেলায় নেই আলট্রাসনোগ্রাম সুবিধা। ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ জেলাতে এবং ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ উপজেলায় নারী রোগীদের আলাদা টয়লেট সুবিধা নেই। শতকরা ৮০ শতাংশ জেলা হাসপাতাল এবং ৮২ শতাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক থাকার ডরমিটরি কিংবা কোয়ার্টারে নিরাপত্তাকর্মী নেই।

জরিপের তথ্য বলছে, জেলা হাসপাতালে ৩০ শতাংশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৩ শতাংশ আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার পদ শূন্য। জেলা হাসপাতালে ৫১ শতাংশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৭ শতাংশ জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদ খালি। জেলা হাসপাতালে ৬৫ শতাংশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৮ শতাংশ মেডিকেল অফিসার বা সহকারী সার্জন পদ শূন্য রয়েছে। নার্সিং স্টাফ, মিডওয়াইফ পদের ক্ষেত্রে জেলা হাসপাতালে ১৫ শতাংশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫ শতাংশ পদ খালি পাওয়া গেছে। জেলা হাসপাতালে ৫১ শতাংশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪২ শতাংশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান পদ শূন্য রয়েছে। 

কর্মচারীদের বিভিন্ন পদের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, জেলা হাসপাতালে ২০ শতাংশ ক্লিনার পদ শূন্য থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য ক্লিনার পদের পরিমাণ ৬৬ শতাংশ। জেলা হাসপাতালে ৩১ শতাংশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৩ শতাংশ নিরাপত্তা প্রহরি বা আনসারের পদ শূন্য পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় গবেষণা প্রতিবেদনে বেশকিছু পরামর্শ তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, মানসম্পন্ন স্বাস্থসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সকল স্তরের শূন্য পদপূরণ করা প্রয়োজন। অর্জিত দক্ষতা অনুযায়ী চিকিৎসকদের যথাযথ পোস্টিং নিশ্চিত করা উচিত। পৃথক পরামর্শ রুম, ওয়েটিং রুম, চিকিৎসকদের কক্ষ, চিকিৎসক ও রোগী উভয়ের জন্য পরিস্কার টয়লেট সুবিধা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের উন্নতি করা প্রয়োজন।

নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি রসদ, প্রশিক্ষিত জনবল, ল্যাবরেটরি পরিষেবাগুলো উন্নত করা দরকার। কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদের সাথে রোগীর অ্যাটেনডেন্ট, স্থানীয় প্রভাবশালী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। 

এছাড়া চিকিৎসকদের জন্য মানসম্মত আবসন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পোস্টিং, বদলি এবং পদোন্নতির জন্য যুগোপযোগী নীতিমালা তৈরি এবং বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রয়োজনীয় সংশোধন করা এবং চিকিৎসকদেরকে পূর্বশর্ত সম্পূর্ণ করার সাথে সাথে পছন্দসই বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে হাসপাতালের উপযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

এমএইচ/এএস