নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩ বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দেশের বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষকরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির (হোমেকশিস) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুই শতাধিক শিক্ষক ও চিকিৎসক অংশ নেন।
মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি ডা. মো. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হোমিওপ্যাথি। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাশিক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতা ও আইন বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে এ খাতের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
মানববন্ধনে সমিতির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩ অনুযায়ী বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ গভর্নিং বডি ও নির্বাহী পরিষদ গঠন; অনুমোদিত হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরকার নির্ধারিত বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ; চিকিৎসায় ব্যবহৃত ফার্মাকোপিয়াভুক্ত হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতামুক্ত রাখা।
ডা. খলিলুর রহমান বলেন, দেশে ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (ডিএইচএমএস) এবং ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (বিএইচএমএস) কোর্স চালু রয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ৬৬টি বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মীর মো. নাঈমুল হক বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাশিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই সময় মিরপুরে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাশাপাশি দিনাজপুর ও পাবনায় হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য জমি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলেও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাশিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে কাউন্সিলের ভবন কেনা এবং সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য।
নাঈমুল হক বলেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ সময় তিনি তিন দফা দাবি জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এম/এফএ