Dhaka Mail Logo

হেলথ

নিকডুতে ডায়ালাইসিস: পিপিপির ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন সরকারি সেবার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

রাজধানীর জাতীয় কিডনি ও ইউরোলজি হাসপাতালের (নিকডু) ডায়ালাইসিস সেন্টারে সরকারি সেবা নয়, বরং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তির ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সেবাপ্রার্থী রোগীরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা। ‘ডায়ালাইসিস সেন্টার (পিপিপি) রক্ষা ও রোগী কল্যাণ কমিটি’ এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

তাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের সুযোগ সীমিত এবং সেখানে সেবার মান নিয়েও নানা সমস্যা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কিডনি রোগীর স্বজন মো. লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেবা নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে রোগীদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সরকারি ব্যবস্থায় স্বল্প খরচে চিকিৎসার যে ফিরিস্তি দেওয়া হয়, বাস্তব পরিস্থিতি তার সঙ্গে মেলে না। পরোক্ষ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রতিবার ডায়ালাইসিসে কমপক্ষে দুই হাজার টাকা ব্যয় হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি ডায়ালাইসিস ব্যবস্থার পাঁচটি বড় সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য শুরুতেই ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিতে হয়। এতে মাত্র ছয় মাস সেবা পাওয়া যায়। এর মধ্যে রোগীর মৃত্যু হলে অব্যবহৃত টাকার অংশ ফেরত পাওয়া যায় না।

এ ছাড়া সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিসের সুযোগ থাকায় যেসব রোগীর সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস প্রয়োজন, তারা মহাবিপাকে পড়েন। একজন রোগীর জন্য মাসে মাত্র দুটি ডায়ালাইজার বরাদ্দ থাকে। ফলে একই ডায়ালাইজার হাতে ধুয়ে বারবার ব্যবহার করতে হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। তাদের দাবি, যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করার কারণে রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জনবল সংকটের পাশাপাশি ডায়ালাইসিস মেশিন ও রক্তচাপ মাপার যন্ত্র প্রায়ই অকার্যকর থাকে। এ কারণে নির্ধারিত চার ঘণ্টার পরিবর্তে অনেক সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ডায়ালাইসিস করেই সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টেপ, গ্লাভস, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস সেটও রোগীদের নিজেদের টাকায় কিনতে হয়।

নতুন রোগীদের ডায়ালাইসিস শুরুর আগে হেপাটাইটিস পরীক্ষা না করানোর অভিযোগও করেন স্বজনেরা। তাদের আশঙ্কা, এতে হেপাটাইটিস নেগেটিভ রোগীরাও পরবর্তী সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, গত আট বছর ধরে পরিবারের সদস্যের ডায়ালাইসিসের খরচ জোগাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করানোর ব্যয় বহন করা আমাদের পক্ষে ভীষণ কঠিন। উপরন্তু সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে গেলে নানা ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচের বিপদে পড়তে হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আমাদের বাঁচা-মরার বিষয়টি বিবেচনা করে পিপিপির মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো ভালো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেন্টারটি সচল রাখুন।

আরেক রোগীর স্বজন মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস মেশিন থাকলেও সেবার মান নিয়ে রোগীদের হতাশা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সূচি পাওয়াও কঠিন। অন্যদিকে পিপিপি প্রকল্পের আওতায় তুলনামূলক কম খরচে যত্নসহকারে সেবা পাওয়া সম্ভব।

শারমিন মির্জা নামের আরেক স্বজন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণের সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় পিপিপি সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলে রোগীদের জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, চিকিৎসা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মুমূর্ষু কিডনি রোগীদের চিকিৎসা যেন বন্ধ না হয়। তাই নিকডুসহ দুই হাসপাতালের পিপিপি ডায়ালাইসিস সেন্টারের সেবা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উল্লেখ্য, কিডনি ডায়ালাইসিস সেবায় ভারতের স্যান্ডরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবে না সরকার। ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য অধিদফতর স্যান্ডর ম্যাডিকেইডস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি এ চুক্তি করে। নভেম্বরেই এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তথাপি ডায়ালাইসিস ফি আগের চেয়ে ৬০০ টাকা কমিয়ে স্যান্ডর চুক্তি নবায়নের প্রস্তাব দিলেও সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে।

এসএইচ/এফএ