ঢাকা মেইল ডেস্ক
০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তাঁরা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সাধারণ রোগীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা শোনেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করে। প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খানসহ সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তা।
হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগ পরিদর্শনকালে দুদক কর্মকর্তারা রোগীদের শয্যাপাশে যান এবং তাঁদের চিকিৎসাপ্রাপ্তির সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। এ সময় রোগীরা দালাল চক্রের হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন। দুদক চেয়ারম্যান রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি সব ধরনের অনিয়ম বন্ধের তাগিদ দেন।
পরিদর্শন শেষে দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটের দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এ সময় তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম রুখতে দুদক তৎপর রয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে কোনো ধরনের ব্যবস্থাপনা নেই। রোগীরা অনেক সুবিধা পাচ্ছেন না। হাসপাতালে এসে একেবারে জরাজীর্ণ পরিবেশ দেখলাম। সারাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা প্রায় একই রকম হলেও ঢাকায় যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সারাদেশের অবস্থা আরও খারাপ। মেডিকেল থেকে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ জড়িত কি না, সেটিও আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আগে হাসপাতালে ঠিকমতো ওষুধ পাওয়া যেত না। এখন অধিকাংশ ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে এবং আগের তুলনায় পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে পুরোপুরি উন্নতি করতে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখছেন, এখানে দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার উপস্থিত আছেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই আপনারা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও রোগীদের অভিযোগ দেখলেন। এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আপনারা জানেন, এখানে ২ হাজার ৬০০ শয্যা রয়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে অনেক রোগী আসেন। দূরদূরান্ত থেকেও অনেক রোগী এখানে আসেন।

তিনি বলেন, আমরা ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। রোগীর আধিক্যের কারণে কোনো রোগী অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে এখান থেকে চলে গেলে সেটি আমাদের জন্য দুঃখজনক। এ ধরনের কোনো অবহেলা আমাদের নেই। ইনশা আল্লাহ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। আমাদের চিকিৎসক, নার্সসহ সবাই মিলে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও আমরা কাজ করে যাব। আশা করি, ভালো কিছু হবে।
চাঁদপুরের মতলবের নালুয়া আশ্রম থেকে আসা এক রোগীর স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে ভালো চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক দালাল তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়ে গেছেন। কিন্তু এখন তাঁর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। খুঁজেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁর স্বামী একজন সামান্য রিকশাচালক।
সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে দুদক চেয়ারম্যান ও তাঁর সফরসঙ্গী কর্মকর্তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
সরকারি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দুদকের এই আকস্মিক পরিদর্শন সাধারণ রোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এমএমআর/এআর