নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
মাদারীপুরের কালকিনি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে সময় মতো উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে (ইউএইচএফপিও) না পেয়ে অপেক্ষা করেছেন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান মন্ত্রী।
এসময় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে দুইজন নার্সকে স্ট্যান্ড রিলিজের (বদলি) নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া দেরিতে আসা ইউএইচএফপিও ও কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বাজেটে জনগণের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে জঘন্য ও শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বিগত বছরগুলোতে স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত জনবল, ভ্যাকসিন বা ওষুধের সংকট ছিল।
হাসপাতালগুলোতে রোগীদের খাবারের মান ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বে খাদ্যের পেছনে মাত্র ১৭৫ টাকা বরাদ্দ ছিল, যা তিন বেলা খাবারের জন্য অপ্রতুল এবং কেউ এর খোঁজ রাখতো না। বর্তমান সরকার সেটিকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকায় উন্নীত করেছে। এর ফলে ইতোমধ্যে বাজেট পাস হয়ে গেছে এবং খুব শীঘ্রই রোগীরা বিশেষ দিনে বিশেষ খাবার সুবিধা পাবেন। সরকারি নিয়ম ও প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা সময় লাগলেও এটি কার্যকরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে হেলথ সেন্টার করা হচ্ছে এবং সেখানে চিকিৎসক থাকবে। এছাড়া ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সাথে একীভূত করে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আউটসোর্সিং প্রথার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আউটসোর্সিংয়ের বদলে সেই ব্যবস্থাটিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য কেবিনেট মিটিংয়ে পাস হয়েছে। আন্ডার-স্টাফড বা যেসব জায়গায় জনবল কম রয়েছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নতুন বাজেটে দুর্নীতির পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে সীমিত বাজেটের অর্ধেক অর্থ দিয়েই এই কাজগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ডিসিদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজেও পরিদর্শনে যাবেন। অনিয়ম পাওয়া গেলেই তাৎক্ষণিক ক্লোজ বা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারে মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক হতে দেয়া হবে না, যা হয়েছে ফ্যাসিস্টের আমলে হয়েছে। প্রতিটি জায়গায় আমরা পরিদর্শনে যাচ্ছি। যেগুলোতে অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি।
এসএইচ/এআরএম