Dhaka Mail Logo

হেলথ

এনআইসিভিডি থেকে ডা. ওয়াদুদ চৌধুরীর বিদায়, যোগ দিচ্ছেন ডা. ইব্রাহিম

সাখাওয়াত হোসাইন

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ এএম

বাংলাদেশের হৃদরোগ চিকিৎসার প্রধান ও সর্ববৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) পরিচালক পদ থেকে অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বিদায় নিয়েছেন। 

অবসরজনিত কারণে তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। নতুন পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সাবেক প্রধান ছিলেন এবং পরে ঢাকায় বদলি বা পদায়ন নিয়ে আসেন।

জানা গেছে, গত ২৫ অক্টোবর সরকারি চাকরিজীবনের দীর্ঘ অধ্যায় সমাপ্ত করেন অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী। কর্মজীবনের তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে হৃদরোগীদের জন্য দেশের একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন।

অধ্যাপক ওয়াদুদ ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সহকারী অধ্যাপক এবং ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী ১৯৬৫ সালের ২৫ অক্টোবর সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং পরবর্তীতে গোল্ড মেডেল সহ কৃতিত্বের সাথে ইন্টারনাল মেডিসিন (এফসিপিএস) ও কার্ডিওলজিতে (এমডি) স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পেশাদার সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তিনি বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি এবং বাংলাদেশ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি সোসাইটির সহ-সভাপতি এবং ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজির সদস্য। তিনি বাংলাদেশে ইকোকার্ডিওগ্রাফি, হার্ট ফেইলিওর ম্যানেজমেন্ট এবং হাইপারটেনশন চিকিৎসার উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়াও তিনি চিকিৎসক ও গবেষকদের পেশাগত উন্নয়নমূলক সংগঠন 'আইপিডিআই ফাউন্ডেশন' এর চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।

এদিকে পরিচালকের পদটি খালি হওয়ায় নতুন করে কয়েকজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম আলোচনায় এসেছে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. তৌফিকুর রহমান ফারুক ও অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল্লাহ ফিরোজসহ কয়েকজন চিকিৎসকের নাম আলোচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত শিগগিরই নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী।

এনআইসিভিডি সূত্রের দাবি, পরিচালক নিয়োগের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন শুধু প্রজ্ঞাপন জারি করার পালা।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী। শিক্ষাজীবনে তিনি মেধাবী ও চৌকস হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং রয়েছে নেতৃত্ব গুণাবলীও। তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস)। ১৭তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদান করেন তিনি। কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামে কাটিয়েছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরী।

জানতে চাইলে একজন প্রভাবশালী চিকিৎসক ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি) কেবল একটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের লাখ লাখ হৃদরোগীর প্রধান ভরসাস্থল। প্রতিদিন সারাদেশ থেকে প্রান্তিক ও দূর-দূরান্তের হাজার হাজার মানুষ এখানে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার আশায় ছুটে আসেন। তাই এই হাসপাতালের পরিচালক পদটি সারাদেশে সার্বিক হৃদরোগ চিকিৎসার মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ একটি আসন। এই হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাসেবার মান এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা সচল রাখতে পরিচালক পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত বড় এবং স্পর্শকাতর একটি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হলে নতুন নেতৃত্বের মধ্যে যেমন দূরদর্শী প্রশাসনিক দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে, তেমনই থাকতে হবে সততা ও স্বচ্ছতা। সাধারণ রোগীরা যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান ও গতিশীলতা যেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়—নতুন পরিচালকের কাছে দেশবাসীর সেই প্রত্যাশাই থাকবে এবং মানুষের প্রত্যাশার আলোকে কাজ করতে হবে।’

জানতে চাইলে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘একজন সৎ, দক্ষ ও ভালো ক্লিনিশিয়ান পরিচালক চাই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যাকে নিয়োগ দেয়, এখন দেখার বিষয়।’

এসএইচ/এআরএম