Dhaka Mail Logo

হেলথ

‘সঠিক জীবনযাপনে মেরুদণ্ডের ৮০–৯০ শতাংশ সমস্যায় উন্নতি সম্ভব’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক শারীরিক ভঙ্গি মেনে চলার মাধ্যমে মেরুদণ্ডের সুস্থতা বজায় রাখা এবং কোমরব্যথার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে মেরুদণ্ডের ক্ষয়জনিত পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি হতে পারে। এতে অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসার প্রয়োজনও এড়ানো যায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের আয়োজিত র‍্যালি ও আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, মেরুদণ্ডের সুস্থতা দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব বিষয়ে সচেতন হলে মেরুদণ্ডের অনেক সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আ. ফ. ম. মোমতাজ হক বলেন, সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। ঢাকা মেডিকেলে দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করা হলেও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এন্ডোস্কোপিক মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার পরিচালনায় প্রয়োজনীয় উন্নত সি-আর্ম যন্ত্র, উপযুক্ত অস্ত্রোপচার টেবিল ও অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসার মান আরও উন্নত হবে।

আলোচনায় চিকিৎসকরা বলেন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, রাত জাগা ও মানসিক চাপ মেরুদণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রচলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে প্রায় চারজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কোমরব্যথায় ভুগতে পারেন। এ সমস্যা ব্যক্তিগত কষ্টের পাশাপাশি কর্মঘণ্টা নষ্ট, উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও চিকিৎসাব্যয় বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Health2

ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা ইশরাত জাহান বলেন, মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে দাঁড়ানো, বসা, হাঁটা ও ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক শারীরিক ভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি। দীর্ঘ সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বা বাঁকা হয়ে বসলে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভুল ভঙ্গিতে ঝুঁকে কোনো বস্তু তুললে আন্তঃকশেরুকা চাকতিতে আঘাত লাগার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি পরামর্শ দেন, মেঝে থেকে কিছু তোলার সময় কোমর বাঁকিয়ে ঝুঁকে না পড়ে হাঁটু ভাঁজ করে পিঠ যথাসম্ভব সোজা রাখতে হবে। বস্তুটি শরীরের কাছাকাছি রেখে তুললে কোমরের ওপর চাপ কম পড়ে।

চিকিৎসকরা আরও বলেন, অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার ওপর নির্ভর করার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি। ব্যক্তিগত অভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি নিরাপদ চলাচল, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে মেরুদণ্ডের রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢামেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. আশিক ইহসান এবং নিউরোসার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. ইমাম হোসেন খান। এতে বিভাগের শিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক এবং হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ/জেবি