Dhaka Mail Logo

হেলথ

‘তৃণমূল স্তরে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

তৃণমূল পর্যায়ে ব্রেস্ট ক্যান্সার (স্তন ক্যান্সার) স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দ্রুত নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও নারীরা এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতা ও চিকিৎসার অভাবে অনেক নারী সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারেন না। ফলে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ থেকেও অনেকে বঞ্চিত হন। স্তন ক্যান্সার একজন নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি তার মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও গভীর প্রভাব ফেলে।

তিনি আরও বলেন, শুধু সভা-সেমিনার আয়োজন কিংবা টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে প্রকৃত সচেতনতা তৈরি সম্ভব নয়। এজন্য চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান। বছরে অন্তত দুই-তিন দিন নিজের গ্রামে ফিরে যান। স্থানীয় নারীদের একত্র করে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং কীভাবে স্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়, তা শেখান। এটি মানবতার সেবা এবং মহৎ কাজ।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, একসময় দেশে সংক্রামক ব্যাধিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষ সহকারী জানান, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়, যা চিকিৎসাকে জটিল করে তোলে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ/এফএ