নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বিত প্রয়োগ নিশ্চিত করে আধুনিক চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নীলক্ষেতে জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমি (এনএপিডি) কর্তৃক আয়োজিত বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ১৩৮তম ও ১৩৯তম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান। দুই প্রশিক্ষণ কোর্সে মোট ৮০ জন প্রশক্ষিণার্থী অংশ নেন।
উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জিনোমিক্স, রোবোটিক সার্জারি, টেলিমেডিসিন, মেডিকেল ডিভাইস ও বায়োটেকনোলজির মতো খাতে বিশ্ব আজ কোথায় যাচ্ছে, তা আমাদের প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবে কেবল বিশ্বকে অনুসরণ করাই যথেষ্ট নয়, নিজেদেরও নতুন কিছু আবিষ্কার করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একজন সরকারি চিকিৎসক যদি তার কর্মজীবনে একটি নতুন চিকিৎসা-পদ্ধতি, নতুন কোনো হেলথ-সার্ভিস মডেল, ডিজিটাল সমাধান কিংবা ব্যবস্থাপনায় নতুন কোনো উদ্ভাবন নিয়ে আসতে পারেন, তবে তার ইতিবাচক প্রভাব একটি হাসপাতালের সীমানা ছাড়িয়ে কোটি মানুষের জীবনে পৌঁছাতে পারে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, আপনারা এমন এক সময়ে চিকিৎসাসেবায় প্রবেশ করছেন, যখন বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও ওষুধের ব্যবস্থাপত্র তৈরিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। রোবোটিক প্রযুক্তি অস্ত্রোপচারকে আরও নিখুঁত ও উন্নত করছে, আর জিনোমিক্সের অগ্রগতি ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসার পথ উন্মুক্ত করছে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের আমি বিশেষভাবে গবেষণা এবং উদ্ভাবনের (রিসার্চ ও ইনোভেশন) সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানাই। চিকিৎসকদের প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার, গবেষণা করার এবং ডেটা বা তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসার আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের পাশাপাশি কাজের সফলতা ও ব্যর্থতা— দুটিই সমানভাবে বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করা সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি এমন একটি জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত হবেন না এবং প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩০ শয্যার হাসপাতালের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শহরমুখী না হতে হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক সায়মা আফরোজ। এরপর উপদেষ্টা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র তুলে দেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমি ( এনএপিডি) এর মহাপরিচালক মো. খায়রুল কবির মেনন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে একাডেমির অনুষদ সদস্যবৃন্দ ও জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা একাডেমির কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসএইচ/এফএ