Dhaka Mail Logo

হেলথ

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজীকরণে ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’ চালু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী করে সবার নাগালে নিয়ে আসার লক্ষ্যে ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’ চালু করেছে ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিআরডিএফ) উদ্যোগ মনোকথা। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও আবেগজনিত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় নিয়মিত মানসিক যত্ন এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কার্ডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিআরডিএফের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির (বিপিএ) সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দিন ইলিয়াস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দিন ইলিয়াস বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু। মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও একাকিত্বে ভুগলেও সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব এবং প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় অনেকেই সহায়তা নিতে আগ্রহী হন না। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মনোকথার কার্যক্রম, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক তানজীম জামান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

মনোবিজ্ঞানী ও মেন্টর হৃদয় ইফতেখার ইফতি কেয়ার কার্ডটির পরিচিতি তুলে ধরে এর প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য সুবিধা এবং নিয়মিত মানসিক যত্ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।

অনুষ্ঠানে মনোকথা ও কেয়ার কার্ডের কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। পরে আলোচনায় অংশ নেন পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রসুল বাবুল, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও এইচআরডিসির পরিচালক জিয়ানুর কবীর, সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর মো. সামসুজ্জামান মোল্লা (ইমন), মনোবিজ্ঞানী তারিন তাবাসসুম এবং সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর সুলতান ভূঁইয়া প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্যেরও নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন। সংকট তীব্র হওয়ার আগেই সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

আলোচনায় বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিসরে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তারা।

আয়োজকরা জানান, নিয়মিত মানসিক যত্নের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সেবাকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যেই কেয়ার কার্ড চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণেও কাজ করবে মনোকথা।

এমআইকে/এফএ