নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
হৃদযন্ত্র থেমে গেলে থেমে যায় জীবন। তবে হৃদরোগের ঝুঁকি ও উপসর্গ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা এড়ানো সম্ভব—এই বার্তাকে সামনে রেখে বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা আয়োজন করে বিশেষ পেশেন্ট ফোরাম।
বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ আয়োজন করা হয়। এতে হৃদরোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং সুস্থ জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পেশেন্ট ফোরামে বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টরা জানান, হৃদরোগ সব সময় স্পষ্ট লক্ষণ নিয়ে আসে না। বুকে ব্যথা বা চাপ, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ ঘাম হওয়া কিংবা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান এবং পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রয়োজন আরও বেশি। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা কমানো এবং জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে কার্ডিওলজিস্টরা সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ধূমপান পরিহার এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় মা ও শিশুর হৃদরোগ। জন্মগত হৃদরোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের জন্য গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গর্ভাবস্থায় মায়ের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর হৃদযন্ত্রের সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব। জন্মের পর শিশুর অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠানে রোগীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টরা। হৃদরোগ, চিকিৎসাপদ্ধতি ও ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তাঁরা। চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি রোগীরা হৃদরোগ প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা বিভিন্ন করপোরেট অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইসিজি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জারি এবং হার্ট ফেইলিউর ব্যবস্থাপনাসহ হৃদরোগ চিকিৎসার বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। হাসপাতালটির এ ধরনের উদ্যোগের লক্ষ্য হলো হৃদরোগ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করা। বিশ্ব হার্ট দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে হৃদযন্ত্রের সুস্থতা রক্ষায় সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এম/এআর