Dhaka Mail Logo

হেলথ

এফওপিএল প্রণয়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ এএম

প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বির পরিমাণ সম্পর্কে ভোক্তাদের সহজে বোঝার মতো তথ্য দিতে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) প্রবিধান দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কার্যকর খাদ্যনীতি প্রণয়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের অডিটোরিয়ামে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ আয়োজনে ‘ইয়ুথ ভয়েস ফর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ শীর্ষক দিনব্যাপী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এ দাবি জানানো হয়।


প্রতিযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


বিতর্কে শিক্ষার্থীরা প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির স্বাস্থ্যঝুঁকি, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার, স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং কার্যকর খাদ্যনীতি প্রণয়নে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে যুক্তি ও তথ্য তুলে ধরেন।


বক্তারা বলেন, এফওপিএল নিয়ে নীতিগত উদ্যোগ ও প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও এখন দ্রুত কার্যকর প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। কার্যকর এফওপিএল ব্যবস্থা ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদকদের স্বাস্থ্যকর পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে দেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশ তৈরির পথও সহজ হবে।


তারা বলেন, তরুণদের খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ প্রয়োজন। গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে তরুণদের মতামত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা ভূমিকা রাখতে পারে। এফওপিএল প্রবিধান দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত ও জন চাহিদা তৈরিতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।


পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে নয়, বৃহত্তর সমাজে তথ্যভিত্তিক জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিতর্কের মতো উদ্যোগ তরুণদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং সামাজিক বিষয়ে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তার কাছে যথাযথ তথ্য পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে ভোক্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।


বক্তারা আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং এফওপিএল প্রবিধান দ্রুত প্রণয়নের পক্ষে জনমত ও জনচাহিদা তৈরিতে তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। দ্রুত কার্যকর এফওপিএল প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন জরুরি।


পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (আইন ও নীতি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, সদস্য (খাদ্য, শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. সাজিদ হাসান। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত।

এএইচ/এজে