নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
বিভিন্ন রং, নকশা ও ফ্লেভারের মাধ্যমে তরুণদের আকৃষ্ট করছে ই-সিগারেট ও নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্য। এসব পণ্যের বিস্তার ঠেকাতে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের নতুন তামাক ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মী ও তরুণদের প্রতিনিধিরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন ও চকচকে মোড়কে পুরোনো বিষ; মূল টার্গেট তরুণ প্রজন্ম’ শীর্ষক অনলাইন সভায় এ দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, কেতাদুরস্ত ভাব বজায় রাখা, পড়াশোনার চাপ ও উৎকণ্ঠা থেকে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া এবং প্রচলিত সিগারেটের ব্যবহার কমানোর ধারণা থেকে অনেক তরুণ ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিন পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব, কৌতূহল, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রভাব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার প্রচার এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষার্থী ফারদিন ইশরাক ও তানজিম রহমান। তারা বলেন, বিভিন্ন রং, নকশা ও ফ্লেভারের মাধ্যমে এসব পণ্যকে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণাও তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
বক্তারা বলেন, হিটেড টোব্যাকো, ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও ভেপের মতো নতুন তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এসব পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিশেষ করে তরুণদের মস্তিষ্কের বিকাশ, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানানো প্রয়োজন।
তারা বলেন, আকর্ষণীয় মোড়ক, বিভিন্ন ফ্লেভার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের কাছে এসব পণ্য সহজলভ্য হওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা দরকার। একই সঙ্গে নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের প্রচার ও ইতিবাচক উপস্থাপন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, তামাক দেশের অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্যে তরুণদের আসক্তি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। ই-সিগারেটসহ এসব পণ্যের ব্যবহার কমাতে কর ও মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সভায় প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের মহাসচিব হেলাল আহমেদ, বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসির প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেলের প্রকল্প সমন্বয়কারী ফারহানা জামান লিজা এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মিঠুন বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির যোগাযোগ কর্মকর্তা শানজিদা আক্তার।
সভা থেকে ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ বা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে সামাজিকভাবে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রমে টেকসই অর্থায়নের জন্য স্বাস্থ্য উন্নয়ন তহবিল গঠনের দাবি জানানো হয়।
এএইচ/জেবি