Dhaka Mail Logo

হেলথ

অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় তামাক নিয়ন্ত্রণের তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগজনিত, আর এসব রোগের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হলো তামাকের ব্যবহার। তাই অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

তিনি বলেন, ‘কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধ সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যের ব্যবহার হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’ 

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদান করেছে। তবে স্বাস্থ্য উন্নয়নের অন্যতম প্রধান বাধা তামাক। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অধিকতর সংশোধন ও শক্তিশালী করে ২০২৬ সালে পাস করা হয়েছে।’ 

এসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল এফসিটিসি’র আলোকে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। 

দেশে ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ মানুষ তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার করে, ফলে তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করছে যা দৈনিক প্রায় ৫৪৬ জন। 

বক্তারা জানান, তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি তামাক চাষে বন উজাড়, মাটির উর্বরতা হ্রাস, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এ ই-সিগারেটকে অন্তর্ভুক্ত না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা জানান তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে নতুন প্রজন্মকে লক্ষ্য করে তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে। 

এ সময় ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এসব পণ্যের প্রচার ও সহজলভ্যতা বন্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ এবং সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ অনুযায়ী বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানান তারা। 

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি এস এম ড. খলিলুর রহমান। 

স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।  

সেমিনারে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এমআইকে/এএইচ