Dhaka Mail Logo

হেলথ

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগ হেলথ ওয়াচের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা কাটছাঁট ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ।

সংগঠনটি বলছে, ওষুধের তালিকা হালনাগাদ বা সংকুচিত করার ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, রোগের ধরন এবং চিকিৎসকদের বাস্তব প্রয়োজনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করে ১৩৫টি নতুন ওষুধ যুক্ত করে মোট ২৯৫টি ওষুধ নির্ধারণ করে। কিন্তু গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করে। পরে ১৬ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঔষধ প্রশাসন শাখা এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সংগঠনটি জানায়, জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই হালনাগাদ তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে, এমন অভিযোগে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।

এ অবস্থায় আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, অংশীজনের মতামত এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তালিকা হালনাগাদের প্রয়োজন থাকলেও তা সংকুচিত করার ক্ষেত্রে রোগের ধরন, জনস্বাস্থ্য চাহিদা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭৩৯টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের বিষয়টিও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ বলছে, চার দশক আগে জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের অগ্রপথিকদের অন্যতম দাবি ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে সুলভ মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করা। সেই জনস্বার্থের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনো নীতি যেন ওষুধশিল্পের বাণিজ্যিক স্বার্থকে জনগণের অধিকার ও সামর্থ্যের ওপরে স্থান না দেয়।

সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের কার্যকর পরামর্শ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ এবং মূল্য নির্ধারণ করা। পাশাপাশি জনগণের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ না দিয়ে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা, ওষুধের সহজলভ্যতা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে দেশের ওষুধনীতির মূল ভিত্তি করা।

এসএইচ/এএম