Dhaka Mail Logo

হেলথ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও রিপোর্টারের বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

গত ১০ আগস্ট ঢাকা মেইলে প্রকাশিত ‘এনআইসিভিডিতে আ.লীগপন্থী চিকিৎসকসহ ২ জনের পদায়ন ঘিরে বিতর্ক’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. মো. মোরশেদ আলম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা মেইলে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুল তথ্যে ভরপুর’। একই সঙ্গে সংবাদে তার সম্পর্কে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যের ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিবাদলিপিটি প্রকাশের অনুরোধ জানান তিনি।

প্রতিবাদলিপিতে ডা. মোরশেদ আলম বলেন, বিসিএস কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পর পদায়ন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে অধ্যাপকের কোনো শূন্য পদ না থাকায় পদোন্নতির পর গত ২২ জুন তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন করা হয়।

তার দাবি, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বায়োকেমিস্ট্রি বিষয়ে একাধিক পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক নিয়মেই তাকে ওই পদে পদায়ন করা হয়। এটি কোনোভাবেই শাস্তিমূলক পদায়ন নয়। কিন্তু প্রতিবেদনে বিষয়টিকে শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।

ডা. মোরশেদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন বিশেষায়িত হাসপাতালে কর্মরত থাকায় তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ভবিষ্যতেও কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে কাজে লাগানোর আগ্রহ থেকেই গত ২৪ জুন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষায়িত হাসপাতালে পদায়নের আবেদন করেন। আবেদনে বিশেষায়িত হাসপাতালে তার পদায়নের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অধ্যাপকের শূন্য পদে পরিচালকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পদায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এটি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কোনো প্রমাণ ছাড়া এর সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা যুক্ত করে সংবাদ প্রকাশ করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদনে তাকে স্বাচিপের সদস্য ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না। পদোন্নতির আগে একজন সরকারি কর্মকর্তার কর্মজীবনের কার্যক্রম বিভিন্নভাবে যাচাই করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফলে প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রতিবেদনে ব্যবহৃত কয়েকটি ছবি প্রসঙ্গে ডা. মোরশেদ আলম বলেন, ছবিগুলো প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি থেকে সংগ্রহ করা, কোনো দলীয় কর্মসূচির অংশ নয়। দায়িত্বশীল পদে কর্মরত থাকার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া প্রতিবেদনে তাকে শান্তি মিছিলে অংশগ্রহণকারী এবং বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, উল্লিখিত দিন ও সময়ের বায়োমেট্রি এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে হাসপাতালে তার সার্বক্ষণিক উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

সরকারের ৬ মাস: নানা চ্যালেঞ্জের মাঝে কতটা পাল্টালো স্বাস্থ্যখাত

অশালীন মন্তব্যের জন্য পরিচিত স্বাস্থ্যের সেই উপপরিচালকের পদোন্নতি

আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে তাকে জড়ানোর বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন ডা. মোরশেদ আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি। বরং আর্থিক অনিয়ম বন্ধে তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। সাবেক কর্মস্থলে তার উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চালু করার ফলে আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং রোগীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রতিবাদলিপিতে ডা. মোরশেদ আলম বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি একপেশে, মিথ্যা, ভুল তথ্যে ভরপুর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের স্বার্থে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তথ্য আলোচনা ও যাচাই করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যতে তার বিষয়ে কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে সরাসরি তার সঙ্গে আলোচনা করে তথ্য যাচাইয়ের পর মতামত প্রকাশের অনুরোধ জানান তিনি।

রিপোর্টারের বক্তব্য

এ বিষয়ে প্রতিবেদকের বক্তব্য হলো, উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যসহ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে রিপোর্টারের ব্যক্তিগত কোনো বক্তব্য সংযোজন করা হয়নি।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ডা. মো. মোরশেদ আলমের বক্তব্য জানতে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বরং এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রতিবেদককে সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

এসএইচ/জেবি