Dhaka Mail Logo

হেলথ

খাদ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ অতিপ্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাদ্যের কারণে দেশে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে খাদ্যের মোড়কের সামনের অংশে (ফ্রন্ট অব প্যাক) সহজবোধ্য স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তা অধিকারকর্মীরা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জনস্বাস্থ্য, ভোক্তা অধিকার রক্ষায় খাদ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী: ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং বিধান নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়। সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্ক ও সিটিজেন নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই সেমিনার আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগে হচ্ছে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ। তাই ভোক্তারা যেন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই খাদ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি বুঝতে পারেন, সে জন্য প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবাণী থাকা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথি মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে প্যাকেটজাত খাদ্যের মোড়কে সহজবোধ্য এবং কার্যকর স্বাস্থ্য সতর্কবাণী সময়ের দাবি। ভোক্তাকে বিভ্রান্ত না করে প্রতিটি খাদ্যপণ্যের পুষ্টিগত ঝুঁকি স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষতিকর উপাদান গ্রহণ করছে, যা নতুন নতুন রোগ সৃষ্টি করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমে শিশুদের সচেতন করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে।

সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অধ্যাপক ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের গাউস পিয়ারী এবং সিএলপিএর কনসালটেন্ট অধ্যাপক ড. আ ফ ম সারোয়ার বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, শিশু ও তরুণদের মধ্যে অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মিষ্টিজাতীয় পানীয় ও ফাস্টফুডের জনপ্রিয়তা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তাই জটিল পুষ্টি তথ্য বা প্রচারণামূলক উপস্থাপনার পরিবর্তে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের তথ্য মোড়কের সামনের অংশে বড় ও দৃশ্যমানভাবে উল্লেখ করতে হবে।

তাদের মতে, ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং শুধু একটি লেবেল নয়, বরং ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার, নিরাপদ খাদ্য নির্বাচনের অধিকার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত হাতিয়ার। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস উপযোগী ও বাধ্যতামূলক একটি লেবেলিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

সেমিনারে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক পুষ্টিমান নির্ধারণ, সহজবোধ্য স্বাস্থ্য সতর্কবাণী, বাধ্যতামূলক প্রয়োগ, শক্তিশালী বাজার নজরদারি, আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর শাস্তি এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।

এএইচ/এফএ